দেশে চরম রাজনৈতিক সংঙ্কট বিরাজ করছে, এ থেকে মুক্তি পেতে আলোচনা ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন জরুরী।

শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে দেয়া খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যসহ সকল কথাকে মিথ্যা দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, দেশে রাজনৈতিক সংঙ্কট নেই। আর বিএনপির সঙ্গে কোন ধরণের সংলাপ ও সমঝোতা হবে না।

শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার‌্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

হানিফ বলেন, দেশে কোন রাজনৈতিক সংঙ্কট নেই। যা হচ্ছে তা সহিংসতা। তাই সহিংসতাকারীদের সঙ্গে কোন সংলাপ ও সমঝোতারও প্রয়োজন নেই। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহীনিই নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

হানিফ বলেন, সংবাদ সম্মেলন ডেকে মিথ্যাচার করে জাতির মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে বিএনপির জন্ম হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখনও মিথ্যাচার করছে তারা।

‘শেখ হাসিনা বলেছেন- ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ম রক্ষার’ খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখন কোথায় এ কথা বলেছেন। এটা মিথ্যাচার। এ মিথ্যাচার জনগণ মেনে নেবে না।

হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন। তাই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বাঞ্চালের জন্য দেশ জুড়ে নাশকতা চালিয়েছে।

তার নির্দেশেই ২০ দলের ক্যাডাররা নির্বাচনের সময় মানুষ হত্যা করেছে। এ সময় হামলা চালিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার সময় ১৪২জন সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করেছে বিএনপি। সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল বিএনপি। এসব অভিযোগে খালেদা জিয়াকে বিচারের মুখোমুখিও করা যেতে পারে।

হানিফ বলেন, জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলেই খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসেননি। কারণ বিএনপি জামায়াত একে অপরের বন্ধু। বন্ধুকে ছাড়া খালেদা কিভাবে নির্বাচনে যাবেন?

তিনি আরও বলেন, বিএনপির শাসনামলে দেশে বোমা-হামলা, জঙ্গি উত্থান ও ২১শে আগস্ট বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না খালেদা জিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ প্রমুখ।

এমআর/এসএইচ