বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট আরোপের সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অনৈতিক কাজ’ অভিহিত করে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দীন আহমেদ বলেছেন, সরকার ছাত্রদের কাছ থেকে ভ্যাট বাবদ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই বুঝা যায় সরকারের ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তারা ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থায় পরিণত হবে ।

শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসনে বেগম খালেদা জিয়ার ৮ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক এবং ইউনিক’ আখ্যা দিয়ে এমাজউদ্দীন বলেন, বিশ্বের কোথাও ভ্যাট আরোপ করে শিক্ষাকে বাধাগ্রস্থ করার নজির নেই। এটি বড় অনৈতিক কাজ।

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা যে প্রক্রিয়ায় আন্দোলন করেছে এককথায় অসাধারণ। অন্য কিছুর দরকার নেই, কাউকে আঘাত করা বা গাড়ি পোড়ানোর দরকার নেই। কিভাবে আন্দোলন করতে হয় তারা দেখিয়ে গেছে।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া এমন দাবী করে তিনি বলেন, ৯১’ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। তার ব্যর্থতার কোনো নজির নেই। ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করে সব কটি আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। সেজন্য তাকে সামনে রেখে সরকার নির্বাচনে যাওয়া সমস্যা মনে করছে। সেজন্য তার মামলায় দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চায় সরকার।

স্বৈরাচার’ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি নেত্রী তার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্র পনুরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তার সৃজনশীল রাজনীতি দেখতে চাই। সেজন্য শুধু ঢাকা বা চট্টগ্রাম মহানগর নয়, সারাদেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলায় গণতান্ত্রিক পন্থায় নেতা নির্বাচন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়া ১/১১ এর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এখন বৃহৎ কারাগারে আছেন। এই কারাগারে তার সঙ্গে আছে ১৬ কোটি মানুষ। বর্তমানে তাকে (খালেদা জিয়া) আবারও ক্ষুদ্র কারাগারে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। সেজন্য তার বিরুদ্ধে করার মামলার কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। কিন্তু রায় হওয়ার পরেও উচ্চ আদালত রয়েছে। সবশেষ জনতার আদালত রয়েছে

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি এই নেতা বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ অবাধ ভোটাধিকারের সুযোগ পেলে যে রায় দেবেন আদালতের রায় তার চেয়ে বড় নয়।

বিএনপির পুনর্গঠনের আগেই দলটির অভ্যন্তরে আত্মকলহ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার দলের রাজনৈতিক সহকর্মীদের তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দলের অনেক নেতাই বলে থাকেন দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র নেই। এজন্য আমরাই দায়ী। কার এলাকায় নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে অনুসারীতের দিয়ে কমিটি করে ম্যাডামের অনুমোদন নেওয়া হয়। এরপর বিদ্রোহী পক্ষ বিদ্রোহ করলে তাদের বহিস্কার করা হয়।’

আগে নিজেদেরকে গণতন্ত্র চর্চা করে পরে দলের গণতন্ত্র নিয়ে সমালোচনা করার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

বিএনপির ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেনা জানিয়ে দলটির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ৩৭ হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে নিয়েছে। আমরা ৩৭জনও নেবনা। কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করা হবেনা। কারন এই দলের প্রতি জনগনের সমর্থন আছে।’

বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেনি উল্লেখ করে এর প্রমান পেতে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা রহমানের সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ন হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ফাঁকি দিয়েননা। ফাঁকি দিলে দল ও দেশের সঙ্গে ফাঁকি দেওয়া হবে। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় সাংগঠনিক রূপ প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধূরী বলেন, জাতি অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে। বিএনপির এখন প্রয়োজন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবসের আলোচনা নয়, নিজেদের আত্মাহুতি দিবস পালন করতে হয় কি না সেই বিষয়ে আলোচনা সভা করার।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াল। কিন্তু আপনারা কয়জন রাস্তায় নেমেছেন। নিজেদের মধ্যে আত্ম সমালোচনা করতে হবে। বিগত আন্দোলনে কে কোথায় ছিল। তা জনগেণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের অগ্নি পরীক্ষায় খালেদা জিয়া অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।ক্ষমতাসীনরা চায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংশ করতে চায়।তারা মনে করছে বিএনপিকে ধ্বংশ করে দিলেই আজীবন ক্ষমতায় থাকা যাবে। কিন্তু বিএনপিকে এত সহজে ধ্বংশ করা যাবে না।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দরটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, যুবদল সভাপতি সেয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি মনির হোসেন, ছাত্রদলের জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরে আরা সাফা।
এছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক মোস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, আলতাফ মাহমুদ চৌধুরী, এম এ মান্নান, শিরিন সুলতানা, এম এ মালেক, মনির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ