রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জোটের নেতারা এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান।

ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

জোটের নেতারা জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।

নেতাদের অভিযোগ, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের পথে এগোলে সরকারের জন্য তা ভালো ফল বয়ে আনবে না।

১১ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া জনগণই লংমার্চে অংশ নেবেন। সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।

সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তারা অভিযোগ করেন, ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চাঁদাবাজি, কৃষকের সারসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যায় মানুষ ভুগছে বলেও দাবি করেন তারা।

জোটের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব সরকার আমলে নেয়নি। বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানও তাদের আন্দোলনের দাবির অংশ বলে জানান তারা।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় ভারতকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দিল্লিতে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। ১১ দলীয় জোট সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বলে জানান নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার অভিযোগও করেন তারা। তাদের দাবি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমন-পীড়ন করা হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসগুলোকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দলীয়করণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

লংমার্চের কর্মসূচি সম্পর্কে নেতারা জানান, ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জনসমাবেশের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে।

জোটের প্রধান দাবি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন। এসব দাবিতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন তারা।

দেশবাসীকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। কর্মসূচিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা এলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাবেন তারা।

এস