প্রতিষ্ঠার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। তবে নিজেদের মধ্যে বিরোধ থাকায় দুই গ্রুপ আলাদাভাবে সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে দেশের চলমান সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধেরও আহবান জানানো হয়।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শাহবাগ স্কয়ারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ উপলক্ষে গণজাগরণ কর্মীরা সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা হাতে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তারা এ বছরের শুরু থেকেই দেশে শুরু হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

বিকেলে সমাবেশ স্থল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার কথাও রয়েছে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের এই দিনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পাল্টিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় গণজাগরণ মঞ্চ।

শুরুতে কতিপয় ব্লগারের অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু হওয়া গণজাগরণ মঞ্চের এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

পরবর্তীতে গণজাগরণ মঞ্চের দাবি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হয়। পরে সর্বোচ্চ আদালত জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।এরইমধ্যে সেই রায় কার্যকরও করা হয়।

পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত আদালতের কোন রায়ই না মানা এবং একতরফা মৃত্যুদণ্ডই দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে গণজাগরণের কার্যক্রম নিয়ে দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

এমন কী এই আন্দোলনের অর্থ ভাগাভাগিসহ নানাবিধ বিরোধ ও কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়েন এর নেতৃবৃন্দ। একাধিকবার রক্তাক্ত বিরোধেও জড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে প্রায় তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আন্দোলনটি এবং যেই ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে এটি বিস্তার লাভ করেছিল তাও হয়ে পড়ে সীমিত।

তবে, সব বিরোধ ভুলে একযোগে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে সংগঠনটি দেশের সর্ববৃহত ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম বাতিলের দাবিতেও আন্দোলন করছে।

কেবি