বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান-উত্তর কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাব্যবস্থা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, প্রায় ৭১ শতাংশ জনগণ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন না করে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠনের দাবি করলেও গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় মানতে চাইছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার হলে শিক্ষা ব্যবস্থারও সংস্কার হবে। জ্ঞান ও চরিত্র- এই দুইয়ের সমন্বয়ে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে ইসলামী শিক্ষাদর্শের আলোকে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়ন ও গণহত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও দলীয়করণ ও নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।
সরকারকে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. ইলিয়াস হোসেন মোল্লা এমপি বলেন, যার যার ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেওয়া সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মুফতি আলী হাসান ওসামা বলেন, ভাষাগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি ভাষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিরা আরও দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেন। তিনি গবেষণায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থায় গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন এবং শহর-গ্রামের শিক্ষাবৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেন তিনি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জামাল হোসেন।
এ সময় বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদ ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।