বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, স্বাধীনতা অর্জন আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এই অর্জন কোন দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির অর্জন ছিল না বরং এই তা ছিল দলমত, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের কাঙ্খিত সাফল্য।

তাই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী বীরদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও মহান স্বাধীনতাকে টেকসই ও অর্থবহ করতে হলে বিভেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। তিনি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শাহাদাতবরণকারী ও ক্ষতিগ্রস্থদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং শহীদদের মাগফিরাত কামনায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন।

তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ফরিদ হোসাইন, আব্দুস সবুর ফকির, শামশুর রহমান, কামাল হোসাই প্রমুখ।

মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগের অতিমাত্রায় ক্ষমতালিপ্সা ও স্বৈরাচারী আচরণের কারণে আমাদের সকল অর্জনই আজ ম্লান হয়ে পড়েছে। জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং এখানে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না বলে বিবিসিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এরফলে আন্তর্জাতিক অংগনে বাংলাদেশ একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত সমাজই স্বাধীনতার ইপ্সিত লক্ষ্য। কিন্তু মহল বিশেষের অপরাজনীতি ও অহমিকার কারণে সে প্রত্যাশা আজও  পূরণ হয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে যখন পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করা উচিত ছিল তখন ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য তাদের সকল শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগিয়েছে। ক্ষমতাসীনরা ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধকে স্বাধীনতার প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। মূলত সরকার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে মহল বিশেষের অর্জন দাবি করে মুক্তিসংগ্রামী বীর জনতাকে অপমানিত করেছে। যা কাঙ্খিত নয়।

জনাব ভূঁইয়া আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আজও  মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দেশে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড জনজীবনকে আতঙ্কগ্রস্ত করে রেখেছে। মতপ্রকাশের স্বধীনতা তথা মানুষের কথা বলার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে এই সরকার।  বিপরীত মতকেও রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার হলেও সরকার জনগণকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এমনকি রাজনৈতিক দলের ঘরোয়া বৈঠকগুলোকে কথিত গোপন বৈঠক আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে নাজেহাল করা হচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় বয়োবৃদ্ধ রাজনীতিক ও আমীরে জামায়াত মকবুল আহমদ, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারী শফিকুল ইসলাম মাসুদ সহ জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ঘরোয়া বৈঠক থেকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। যা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মারাত্মক লঙ্ঘন। তিনি সরকারকে বিভেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে আমীরে জামায়াত সহ বিরোধী জোট নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাধের ওপর ভর করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে আজীবন ক্ষমতা দখলে রাখতে চায়। সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ৫ই জানুয়ারীর মত আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চাই অথচ চলমান সঙ্কট থেকে উত্তোরণের একমাত্র পথ হলো জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং বিরোধী জোটের শীর্ষনেতাদের মুক্তি দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রদান করা। অন্যথায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এ ফ্যাসিস্ট সরকারকে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।

এছাড়াও আজ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় থানায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

খিলগাও থানাঃ  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খিলগাও থানার উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। খিলগাও থানা সেক্রেটারী এস এম জুয়েলের সভাপতিত্বে ও থানা।

কর্মপরিষদ সদস্য আশরাফুল আলম ইমনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান সাজু, শেখ মোহাম্মদ, ইলিয়াস মৃধা, রওশন জামান, জামায়াত নেতা রাইহান উদ্দিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

রমনা দক্ষিণ থানাঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রমনা দক্ষিণ থানার উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য ও থানা আমীর মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার সুমন, থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রেজাউল করিম, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এসএম