ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দুই সিটি করপোরেশনের ৯২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ৩৪ টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী।

গত ৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। দলের অনেক সৎ, ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের স্থান হয়নি এ তালিকায়।

এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে দলের অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী। তাদের দাবি- দলের সমর্থন না পেলেও তাঁরা লড়বেন। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বলে তাঁদের এ সিদ্ধান্ত দলের বিপক্ষে অবস্থান নয়। কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৯ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন মুন্সী কামরুজ্জামান কাজল। তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাসার।

তিনি বলেন, আমি রমনা-শাহবাগ থানার সভাপতি, আমি নির্বাচন করব না তো কে নির্বাচন করবে? ওই প্রার্থীকে (কাজল) মৌখিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। না করলে আমি কী করব?

২১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন এম এ হামিদ খান। তবে এই এলাকায় প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

তিনি বলেন, আপনারা হয় তো জানেন সে অনুপ্রবেশকারী। আমার জান দিয়ে নির্বাচন করব, জয়ের জন্য চেষ্টা করব। সবাই আমার সঙ্গে আছে।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। এই ওয়ার্ডে আরও প্রার্থী হয়েছেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ আকবর। ওই ওয়ার্ডে হাজী আলমগীর নামে আরও একজন প্রার্থী রয়েছেন।    

২৬ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গণি। তবে ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান হ‌ুমায়ূনও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস সুমন। তবে ওই এলাকায় প্রার্থী হয়েছেন লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুছ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামালউদ্দিন বাবলু। এছাড়াও দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরও অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন আফছার উদ্দিন খান। সেখানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেনও ওই এলাকার প্রার্থী হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি ওয়ার্ডে দীর্ঘ দিন ধরে সভাপতি। একবার যখন নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম তখন আওয়ামী লীগ নেতা কাদের মোল্লাকে দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, পরে আমাকে দেওয়া হবে। কিন্তু হয়নি। এবার প্রয়োজনে আমি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করব।

৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন জামাল মোস্তফা। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মতিউর রহমান মাইকেল ও যুবলীগের নেতা সামছুদ্দিন শেখ।

১১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন গাজী অলিউর রহমান (বাবুল)। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান আবদুল মান্নান। ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়া শাহজাহানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আজমত দেওয়ান। ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার সালেক মোল্লাও লড়বেন।

এদিকে বিগত ৫ সিটি নির্বাচনে হেরে আসন্ন তিন সিটিতে জয়ের জন্য মরিয়া আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে চরম দু:শ্চিন্তায় ও অসস্তিতে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।

তবে এই নির্বাচনে জয়ের ধারার ফিরতে চায় তারা। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে দল থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

গত বুধবার আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের বাসায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দেয়ার বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সমর্থন না পেয়ে যারা কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণা সমন্বয়ক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এরই মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে দল সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

বিদ্রোহীদের সর্ম্পকেও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বসে যাবেন বলে জানিয়েছেন। দল সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীরাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তাই খুব শীঘ্রই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী ফারুক খান বলেন, দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলীয় অন্য কোন প্রার্থী নির্বাচন করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএইচ