দু'দিনে রাজধানীর আদাবর ও শাহবাগ থানা পুলিশ ৯ নিরাপরাধ রোজাদার ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে গ্রেফতার করে হয়রানি, ভ্যান ও পুস্তিকা জব্দ, জনমনে আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
এক বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, সরকার অপশাসন ও দুঃশাসনে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্যই জনগণের উপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা ক্ষমতা রক্ষার জন্য এখন পোড়ামাটি নীতিগ্রহণ করেছে। সে ধারাবাহিকতায় গত ১৭জুন রাতে রাজধানীর আদাবর থেকে ইবনুল ইসলাম পিতা-জাহাঙ্গীর হোসেন, এনামুল হক পিতা-ফজলুর রহমান, আনিসুর রহমান পিতা-সাবদার রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদেরকে আদালতে সোপর্দতো করেনি এমনকি গ্রেফতারের কথা স্বীকারও করছেনা। পুলিশ গত রাতে আদাবরের বাসা থেকে ইয়াছিনুজ্জামান ও আল আমীন নামের ২জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিলেও বিধি মোতাবেক তাদেরকে এখনো আদালতে সোপর্দ করা হয়নি।
তিনি বলেন, তাদের দিয়ে কোনো বিশেষ নাটক মঞ্চস্থ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সরকার। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন তাদের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত ১৭ জুন আইনানুগ পুস্তিকা নিয়ে যাবার সময় শাহবাগ থানা পুলিশ ভ্যানচালককে গ্রেফতার করে এবং তার মধ্যমে মীরপুর ১০নং গোলচত্তর থেকে মামুনকে এবং ছাঁপাখানা থেকে আরো দুইজনসহ মোট চারজনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে এবং ২টি ভ্যানসহ পুস্তিকা জব্দ করে। আজকেও তাদের কোর্টে হাজির করা হয়নি। এসব ঘটনা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মারাত্মক লঙ্ঘন। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পবিত্র রমজান মাসে নিরপরাধ ও নিরীহ রোজাদারদের গ্রেফতার ও আইনানুগ পুস্তিকা জব্দ করা সম্পূর্ণ অমানবিক, অসাংবিধানিক ও মৌলিক মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। যা সরকারের অমানবিক, নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক মানষিকতার পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, সরকার ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’-এর পরিবর্তে ‘শিষ্টের দমন আর দুষ্টের লালন’ করে চলেছে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও রাষ্ট্রই এখন আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। কোনো প্রকার পরওয়ানা ছাড়া দেশের কোন নাগরিককে গ্রেফতার না করার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও হয়রানি ও গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। সরকারের জিঘাংসা ও প্রতিহিংসার হাত থেকে রেহাই পাননি কোন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। এমনকি নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও। বাদ যায়নি ধর্মপ্রাণ ও পর্দনশীন ছাত্রীরাও। যা সরকারের বাকশালী, ফ্যাসীবাদী ও বর্বরতার প্রমাণ বহন করে।
তিনি আরও বলেন, মূলত সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের পরিবর্তে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গুপ্তহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বেড়েই চলেছে। কথিত ক্রসফায়ার ও সাজানো বন্দুকযুদ্ধর মাধ্যমে তাদের সকল অপকর্মের সাক্ষ্য-প্রমাণ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। খোদ সরকার জাতীর সামনে এর কোন গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে পারছেন না।
তিনি আদাবর ও শাহবাগ থানায় ৯ জনকে গ্রেফতার, ভ্যান ও পুস্তিকা জব্দের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
এমআইএস





