বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে কেউ কখনো কলঙ্কিত করতে পারেনি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘অনেক সময় সুবিধাভোগী কেউ ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। সেই দিকে ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মীদের খেয়াল রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সময় তিনি হরতাল-অবরোধ করেছেন। স্বাধীনতা দিবসে হরতাল অবরোধ করেছেন।

২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল-অবরোধ করেছেন। তিনি এখন নীরব, নিস্তব্ধ হয়ে গেছেন। উপলব্ধি করেছেন যে, আন্দোলনের পথ এটা না। আজকে একটা কথা পরিষ্কার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর লক্ষ্যে অবিচল। তিনি তাঁর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। ইনশা আল্লাহ, আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। সেই কাজে আমাদের ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তোফায়েল দাবি করেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছিলেন। ভারত বিরোধিতা করে রাজনীতিতে সফল হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তী স্বৈরশাসক একই কাজ করেছিলেন। খালেদা জিয়া ৯১-তে ক্ষমতায় এসেও গঙ্গার পানি নিয়ে আলাপ করেন নাই। বলেছিলেন ভুলে গেছি।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছেন। ২০০৯-এ সরকার গঠন করে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে প্রটোকল সই করেছিলেন, সেটাও অনুমোদিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন। আমরা বাণিজ্য চুক্তি করব। আমরা অনেকগুলি চুক্তি করব। ভারতের সঙ্গে আমাদের যে বিবদমান সমস্যা ছিল, সেগুলা আমরা সমাধান করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যাও পাব।’

২০২০ সালে জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে এখন থেকেই ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তোফায়েল। আগামীকাল শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এ অনুষ্ঠানে সবাইকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

‘বিএনপি কখনো ভারত বিরোধিতা করেনি, করবেও না’—বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এমন মন্তব্যের বিষয়ে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘ওদের পয়দাই হয়েছিল ভারত বিরোধিতা করে।

২০০৮ সালের নির্বাচনেই তো তারা বলেছিল, নৌকায় ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে। এখন মোদি আসছেন। তাই এ কথা। কথায় বলে ঠেলার নাম বাবাজি। ভূত পালায় যায় ডরে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সাংসদ ফজলে নূর তাপস, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, বর্তমান সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান, মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাসভীরুল হক প্রমুখ। সম্মেলন পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক।

এসএইচ