২৮ অক্টোবরের পৈশাচিক হত্যাকান্ডের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এই বাংলাদেশেই বাস্তবায়ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
আজ দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার সহকারী এম আলাউদ্দিন আরমান স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এ কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, "আজ সেই ভয়াল ২৮ অক্টোবর, এগার বছর আগে ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে জামায়াত-শিবিরের উপরে পরিকল্পিত ভাবে তাণ্ডবলীলা চালায় আ.লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মত পিটিয়ে মানুষকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।
সেই তান্ডবে ঢাকার রাজপথে ৬ জনসহ সারাদেশ ১৩ জন জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মী শাহাদাৎ বরন করেন এবং আহত হন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। সাপের মত পিটিয়ে হত্যা ও মৃত লাশের ওপর নৃত্য ও উল্লাস করার মতো ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের কোটি কোটি বিবেকবান মানুষকে হতবাক করে দিয়েছিল।
সেদিন জামায়াতকে ধ্বংস করার জন্য নির্দয়, নিষ্ঠুর ও পাশবিক কায়দায় আওয়ামী সন্ত্রাসী ও তার বাম শরীকরা পরিকল্পিত ভাবে যে নরহত্যায় মেতে উঠেছিল তা দেখে কেঁদেছে বাংলাদেশ, কেঁদেছে বিশ্বমানবতা অথচ কাঁপেনি সন্ত্রাসীদের হাত ও বুক।"
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লগি-বৈঠার তান্ডবে নিহত শহীদদের স্মরণে আজ (শনিবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা ও দোআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
ড. হেলাল আরো বলেন, "জামায়াত-বিএনপি জোটের রাজনৈতিক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই আওয়ামীলীগ মুলত এই জঘন্য তাণ্ডবলীলা চালায়। এর মাধ্যমে জামায়াতকে ধ্বংস করে জোটের মনোবল ভেংগে দেওয়ায় তাদের লক্ষ ছিল। কারন বিএনপি ও জামায়াত জোটগত ভাবে পরবর্তী নির্বাচন করলে কোনভাবেই আ.লীগ ক্ষমতায় আসতে পারতো না।
জোট ভেংগে কেবলমাত্র আলাদাভাবে নির্বাচন করলেই আ.লীগের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন পুরন হত ফলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষেই জামায়াতকে পরিকল্পিত ভাবে টার্গেট নির্ধারণ করে এই জঘন্য মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটিত করে আ.লীগ ও তার নামধারীরা।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে লগি, বৈঠা ও মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যে হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটিত করা হয়েছিল তা দেখে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব সহ সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে অথচ ২৮ অক্টোবরের পৈশাচিকতার বিচার হওয়াতো দূরের কথা, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাই প্রত্যাহার করে নেয়।
তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার বিচার দাবী করে বলেন, দেশে সুবিচার নিশ্চিত করার জন্যই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া উচিত এবং বর্তমান সরকার এতে ব্যর্থ হলে এই বাংলাদেশেই কোনো একদিন এই অন্যায়ের সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।
জামায়েতি ইসলামি ২৮অক্টোবর উপলক্ষে ভিন্ন ভিন্ন দোয় ও আলচনা সভা করেন। আজ (শনিবার) দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সহকারী এস এম আব্দুল্লাহ এক প্রেসবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কেন্দ্র ঘোষিত ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মিরপুর পশ্চিম থানা আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ফলে দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুপ্তহত্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। জনগণের ক্রয় ক্ষমতা না থাকলেও দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে। সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই জনগণের ওপর দলন-পীড়ন চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারকে নেতিবাচক বাচক রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মকবুল আহমদ সহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।
আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিনের কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান, কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিনের শুরা সদস্য এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, মুহিব্বুল্লাহ ফরিদ, আবু শাহাদাত মোহাম্মদ আলী সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও আলোচনা সভা করেন ঢাকা মহানগরী উত্তর,ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ,মোহাম্মদপুর থানা,বিমানবন্দর থানা খিলগাঁও, মতিঝিল, পল্টন থানা, হাজারিবাগ থানা সহ বিভিন্ন থানায় রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর কালো দিবস উপলক্ষ্যে স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এএস





