দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে যোগদানের জন্য গত বৃহস্পতিবার বিএনপিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপি সম্মেলনে ‘অংশ নিচ্ছে’ এমন খবর ওইদিন থেকেই চাউর হচ্ছিল। আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘আমরা দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ এরপর গতকাল শুক্রবার সকালে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এক সভায় বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানোয় আমরা খুশি। ওরা আসেনি তো কি, আমরা যাবো। আমরা ওদের মতো হীনমণ্য নই।’

কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির কোনো নেতা বা প্রতিনিধি আজ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যাননি। আগামীকাল সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনেও বিএনপি যাবে কি না তা অনিশ্চিত। কারণ সম্মেলনে যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি।

এদিকে ঠিক কী কারণে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিএনপি অংশ নেয়নি সে নিয়ে কৌতুহলের অন্ত নেই মানুষের।

এ ব্যাপারে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। তবে একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারে হত্যা, বিএনপিকে সম্মেলনের জায়গা দেয়া নিয়ে গড়িমসি এবং এখনো বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ বেশ কিছু কারণে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যায়নি বিএনপি। এ ছাড়া আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিএনপির সম্মেলনে আওয়ামী লীগের অংশ না নেয়া এবং আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগের রাতে অন্য কয়েকটি দলের না যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপি অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) রুহুল আলম চৌধুরীর কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্মেলনে যোগদানের জন্য আওয়ামী লীগ আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু ঠিক কি কারণে বিএনপি অংশ নেয়নি সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেনা বলে মন্তব্য করেন।

বিএনপির এক সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, গত ১৯ মার্চ বিএনপির কাউন্সিলকে এক ধরনের কোণঠাসা করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কাউন্সিলের আগের দিনে অনুমতি দিয়ে প্রস্তুতি নেয়ার টানটান সময় বেঁধে দেয়ার কৌশল করায় পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি থেকে বঞ্চিত ছিল বিএনপি। তা ছাড়া সারাদেশে তাদের অসংখ্য নেতাকর্মী বর্তমান অবৈধ সরকারের নির্যাতনের শিকার। বহু নেতাকর্মীকে তারা বিনা বিচারে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে। কাউকে কাউকে পঙ্গু করেছে। অনেককে জেলে পাঠিয়েছে। এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অংশ নেয়াটা বিএনপির পক্ষে যুক্তিসঙ্গত নয়।

বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের কাছে জানতে চাইলে দলীয়ভাবে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দ্বারা বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বহু নেতাকর্মী বিনা বিচারে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নির্যাতন এবং হয়রানি করা হচ্ছে। বহু মানুষ হত্যা ও গুম করেছে এই সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সুতরাং নেতাকর্মীদের এত রক্তের ওপর দিয়ে অবৈধ ও মিথ্যাবাদী ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলনে অংশ নেয়া মানে হবে শহীদদের সাথে অবিচার করা। যা বিএনপির জন্য মানায় না।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিএনপির অংশ নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান সকালে জানান- সম্মেলনে কেউ যাবে কি না, এ নিয়ে কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

এ ছাড়া বিএনপির বহু নেতাকে ফোন করা হলে তারা রিসিভ করেননি। অনেকে মোবাইল বন্ধও রাখেন।

এআই