পুলিশি বাঁধার মধ্যে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মীর কাসেম আলীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাদ যোহর। জানাজায় হাজার ও মানুষের ঢল নামে। কিন্তু পুলিশের কড়া নজরদারিতে অনেক মানুষই জানাজায় অংশগ্রহনে ব্যার্থ হয়। এবং জানাজায় আগত ১৩ মুসল্লিকে পুলিশ আটক করে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, সরকার বিরোধী মতকে নির্মূল করে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েমের জন্যই শহীদ মীর কাসেম আলীসহ বরেণ্য জাতীয় নেতাদের একের পর এক হত্যা করছে। কিন্তু শহীদ করে অতীতে কখনো ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করা যায়নি, আর কখনো যাবেও না। তিনি শহীদানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান এবং দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করে শহীদ মীর কাসেম আলী সহ শহীদানের রক্তের বদলা নেয়া হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি আজ রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররামে বাদ জোহর শহীদ মীর কাসেম আলীর গায়েবানা জানাজা পূর্ব বক্তব্যে একথা বলেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা ও আবদুস সবুর ফকির , ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীন , ইবনে কারিম মিঠু ও মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রনেতা মোবারক হোসাইন, মুহাম্মদ আল-আমীন সহ মহানগরী থানা সমূহের আমীর,সেক্রেটারী এবং মহানগরী ছাত্র নেতৃবৃন্দ। জোহরের নামাজের সময়ের বেশ আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসলামপ্রিয় শোকার্ত জনতা শহীদ মীর কাসেম আলীর গায়েবানা জানাজায় শরীক হওয়ার জন্য জাতীয় মসজিদ কম্পাউন্ডে সমবেত হতে শুরু করেন। বেলা ১ টা বাজার সাথে সাথে বায়তুল মোকাররাম এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মুসল্লীদের মসজিদে প্রবেশে ক্ষেত্রে দফায় দফায় বাঁধা প্রদানের চেষ্টা করে এবং আগত মুসল্লিদের ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু শোকার্ত জনতা সকল বাঁধা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে মসজিদের প্রবেশ করেন।

গায়েবানা জানাজা পন্ড করতে পুলিশি রণ প্রস্ততি দেখে আগত মুসল্লিদের অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

বাদ জোহর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বায়তুল মোকাররাম মসজিদ কমপ্লেক্সে জন সমূদ্রে পরিণত হয়। জানাজা নামাজে ঈমামতি করেন মাওলানা শফিকুল্লাহ মাদানী। বিশিষ্ট ওলামেয়েকেরামদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলামীর নেতা মাওলানা আবদুল মুমিন, হাফেজ মাওলানা আবুল হাসান, মাওলানা কামরুল হাসান, মহানগর মোফাসিরুল কুরআন পরিষদের নেতা মাওলানা আবুল বাশার নোমানী ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মাওলানা মুফতি তাজুল ইসলাম কাউসার ।

বাইতুল মোকাররমে শহীদ মীর কাসেম আলীর ২য় গায়েবানা জানাজার ইমমিতি করেন মোহাদ্দীস মাওলানা মিজানুর রহমান।

মিরপুর :

মিরপুরে শহীদ মীর কাসেম আলীর বাসভবনস্থ’মহলার মসজিদে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লীদের উপস্থিতিতে   বাদ জোহর বিশাল গায়েবানা জানাজা   অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য মাহফুজুর রহমান । অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর মজলিশে শুরার অন্যতম সদস্য প্রফেসর এ করীম, আশরাফুল আলম, আবুল হাসান, নাসির উদ্দিন। থানা সেক্রেটারিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার আব্দুল মতিন, আলাউদ্দিন, আবু হানিফ, আহমাদ উল্লাহ, আব্দুর রাকীব, দৌলত খান ও নওশাদ আলম। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারি ছাত্রনেতা আব্দুল আলীমসহ মহানগরী ও থানাসমূহের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।

জানাজা পুর্ব বক্তব্যে তিনি বলেন 'শাহাদাতের মৃত্যুই জান্নাতের নিশ্চিত গ্যারান্টি । আল্লাহ দ্বীনের কাজ করতে অসংখ্য নবী রাসুল ও আল্লাহ ওয়ালাগন জীবন দিয়ে শাহাদাতের অমীয়সূধা পান করেছেন । আসুন আমরা শহীদের উত্তরসূরি হিসাবে তাদের রেখে যাওয়া কাজকে আন্জাম দেওয়ার শপথে বলীয়ান হই। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের অভিভাবকত্ব গ্রহন করুন । আমীন।

রমনা :

শহীদ মীর কাসেম আলীর আরও একটি গায়েবানা জানাজা রাজধানীর মগবাজারস্থ’কেন্দ্রীয় অফিস সংলগ্ন চান জামে মসজিদে আজ বাদে যোহর অনুষ্টিত হয়। গায়েবানা নামাজে উপস্থিত ছিলেন রমনা থানা কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ আলী, জামায়াত নেতা রুহুল আমীন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রনেতা আবদুল জব্বার, ছাত্রনেতা রিদোয়ানুল হক ও থানার অনন্য নেতৃবৃন্দ। গায়েবানা জানাজায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লীও অংশ গ্রহন করেন।

এফএফ /এআই