বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর জেলা শাখার ষান্মাসিক রোকন সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাও. আব্দুল হালিম বলেন, দেশের জনগণের দাবি কেয়ারটেকার সরকার আদায় এবং জালিম সরকারের পতনের জন্য সামনের যে আন্দোলন ও কর্মসূচি আসবে তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়নের জন্য রোকন ভাইদেরকে ময়দানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এই স্বৈরাচার সরকার ২০১৪ সালে নিয়ম রক্ষার কথা বলে একটি প্রতারণার নির্বাচন করে এবং ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করে, দেশের জনগণের সাথে নির্লজ্জ তামাশা করেছে। সেই সাথে জনগণের উপর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন ও বিচারের নামে অবিচার অব্যহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ এর মতো তামাশার নির্বাচন এবারে আর সম্ভব নয়। এটি বুঝতে পেরে তাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বেসামাল বক্তব্য দিচ্ছেন, যা তাদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

মাও. আবদুল হালিম বলেন, সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে, আমাদের ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা ইন্তেকাল করেছেন। ৫ জনকে ফাঁসি দিয়ে এবং ৬ জনকে জেলখানায় কষ্ট দিয়ে শহীদ করা হয়েছে। আমাদের নেতৃবৃন্দ জীবন দিয়েছেন তবু জালিমের কাছে এক মূহুর্তের জন্য আপোষ করেননি।

তিনি আরও বলেন, এখনো আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে অসংখ্য ভাই জালিমের কারাগারে আবদ্ধ। তাই আমাদেরকেও জেল জুলুম ও মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে, স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক বলেন, রোকনদেরকে ৪টি মান অক্ষুন্ন রাখতে হবে। ১.দ্বীনি মান ২.নৈতিক মান, ৩.চারিত্রিক মান ও ৪.সাংগঠনিক মান। মনে রাখতে হবে আমাদের ২ জন মন্ত্রী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্রমাণ করে গেছেন ক্ষমতায় থাকলেও লোভ ও দূর্নীতিমুক্ত থাকা সম্ভব। যা রাষ্ট্রের জন্য ও আমাদের জন্য উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকে জেলা হতে ইউনিট পর্যন্ত নির্বাচনী যাবতীয় কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আনজাম দেয়ার জন্য তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল।

তিনি বলেন, আন্দোলন ও নির্বাচন দুটিকে সামনে রেখে আমাদেরকে এখন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ময়দানে সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে রোকনদেরকে সামনের কাতারে থেকে যাবতীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোঃ গোলাম রাব্বানীর সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারী মাওলানা মোঃ এনামূল হকের পরিচালনায় সম্মেলনে দারসুল হাদিস পেশ করেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল হাকিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আব্দুল খালেক।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি