গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে না দিয়ে সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তি করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে না। সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। গত ৫ জানুয়ারি ‘ভোটার বিহীন’ নির্বাচনের পূর্ব থেকে এ নিষেধ আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ড উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত স্মরণ সভার অনুমতি না দেয়ার প্রেক্ষিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিএনপির উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনষ্টিটিউটে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরো বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিলো সরকার তাদের এ অগণতান্ত্রিক অবস্থান থেকে সরে আসবে। কিন্তু জনগণের ওপর আস্থাহীন সরকার জনবিরোধী তার সেই অবস্থান ধরে রেখেছে। তিনি অবিলম্বে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের ওপর থেকে সবধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ড স্মরণে ডিএমপির কাছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলেও শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হয়নি। একটি স্বাধীন দেশের এ ধরনের একটি অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি না দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় জীবনে ভয়াবহ শোকাবহ ট্রাজেডি মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যে চক্র বাংলাদেশকে দূর্বল আর নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তারাই সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনার মূল হোতাদের আড়াল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক নেতাদের জড়ানো হয়েছে। বিএনপির নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে মিথ্যাই জড়ানো হয়েছে। কিন্তু যাদের নাম বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে এসেছে তারা আড়ালে থেকে গেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার তাড়াহুড়া করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিকে আড়াল করেছে। এত বড় চক্রান্তে সঠিক বিচার হয়েছে কি না তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীন সত্ত্বাকে বিনষ্ট করে জাতিকে কোনো এক গোষ্ঠীর ক্রীড়ানকে পরিনত করার অশূভ বাসনা থেকে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়ার চক্রান্ত এবং সীমান্তকে অরক্ষিত করার গভীর চক্রান্তের অংশও এটি।
২৫ ফেব্রুয়ারি আড়ম্বরপূর্ণভাবে এশিয়া কাপ উদ্বোধনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলা যেত।’
সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) এম হফিজ উদ্দিন আহমেদ, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, জাগপার চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাৎ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, এমএইচ, ২৫ ফেব্রুয়ারি(টাইম নিউজবিডি.কম)// এসআর