আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালেই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ (সোমবার) সকালে রংপুরের পাগলাপীরে হামলা-অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু অধ্যুষিত ঠাকুরপাড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।
ঠাকুরপাড়ার হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিসংখ্যান খুঁজলে দেখা যাবে আওয়ামী লীগের আমলেই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
সংখ্যালঘুদের ওপর এই নির্যাতনের বিচার দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, রংপুরের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। তবে ওই তদন্তের কাজে এমন কাউকে নিয়োগ করা যাবে না, যারা সরকার প্রভাবিত। কারণ বর্তমানে বিচার বিভাগ সরকারের প্রভাবমুক্ত নয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদায় তারই প্রমাণ।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, বিএনপির পক্ষ থেকেও তদন্ত দল গঠন করা হবে। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক এটাই বিএনপি চায়। এ সময় মির্জা ফখরুল হামলায় ক্ষতির শিকার মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮ অক্টোবর টিটু রায় নামে এক হিন্দু যুবক ‘এমডি টিটু’ নামের আইডিতে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মুহম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে অবমাননাকর উক্তি দিয়ে পোষ্ট দিলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এই ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ সলেয়াশাহ এলাকায় বিক্ষুব্ধ মুসল্লী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছিলো।
কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বাদ জুম্মা সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। জুম্মার নামাজের পর শত শত মানুষ সলেয়াসা বাজার এলাকায় জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় ওই সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানায়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের কথা কাটাকাটি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় সংঘর্ষ বেঁধে প্রায় ২ ঘন্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে গুলি, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে ৫ পুলিশ’সহ আহত হয়েছে প্রায় ৬০ জন।
রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় হাবিবুর রহমান (২৬) ও সিএনজি চালক হামিদুল ইসলাম (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
নিহত হাবিবুরের স্বজন আজিমুল ইসলাম বলেন, হাবিবকে মৃত অবস্থায় পেয়ে ভর্তি করেনি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ। লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেয় পড়ে রয়েছে। নিহত হাবিবের বোন আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশের গুলিতে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
সেই সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে যুবকের নামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে তাঁর বাড়িসহ ৫ টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া ১৪ থেকে ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করে তারা।
এমবি





