বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে জনগণ কেন আস্থাহীনতায় ভুগছেন, এর কারণ খুঁজে বের করে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে চিকিৎসকদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
আজ শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনি ট্রাস্ট আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ডা. মিলন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বমানের চিকিৎসক ও হাসপাতাল থাকলেও প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ বিদেশে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে। বিদেশিরা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজে পড়তে আসলেও চিকিৎসার জন্য কেন তারা বাংলাদেশে আসছে না এর কারণ খুঁজে সবের করতে হবে। প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সুস্থ সবল জনগোষ্ঠি প্রয়োজন। স্বাস্থ্যখাতে কাক্সিক্ষতমানের সেবা নিশ্চিত করে এ ধরনের জনগোষ্ঠি গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর পাশাপাশি প্রত্যেক মেডিকেল কলেজে গবেষণার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমান সরকার গৃহিত উদ্যোগের ফলে দেশে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭১ বছর হয়েছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে এমডিজি অর্জনে সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। এসব অর্জনের পেছনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনি ট্রাস্টের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সেবা একটি মহান পেশা। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে দেবতার পর্যায়ে উন্নীত করতে পারে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনি ট্রাস্টের প্রবীণ সদস্যদের কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের অবহিত করার পরামর্শ দেন। এর মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবার গুণগত মানোন্নয়নে অনুপ্রাণিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মোঃ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সনাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার ডা. মিজানুর রহমান ও অধ্যক্ষ মোঃ ইসমাইল খান বক্তব্য রাখেন।





