একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই নেতা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলেও কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আজ (শনিবার) দুপুরে খবর প্রকাশিত হয়।

শনিবার দুপুর থেকে ওই খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কোন আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং না হওয়ায় সাংবাদিকরা তাদের নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি প্রচার করেন।

এদিকে, শনিবার দুপুরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা সে ব্যাপারে তার স্বামী দুদিন আগে সাক্ষাতের সময় কিছু বলেননি। তিনি আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু সরকার আইনজীবী বা পরিবারের কারো সাথে তার স্বামীকে দেখা করতে দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন সাকার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ।

সাকা চৌধুরী প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কীনা-সাংবাদিকরা আবারও এমন প্রশ্ন করলে সাকার স্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে আমরা কিভাবে সিদ্ধান্ত দেব, এটা একান্ত তার নিজস্ব বিষয়। আইনজীবীদের সাথে তাকে সাক্ষাতের সুযোগ দিলে বিষয়টি পরিস্কার হতো বলেও জানান ফরহাত কাদের চৌধুরী।

তবে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের অপর এক সূত্রে জানা গেছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না বলে তাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন দুদিন আগেই। এরপর তার সাথে গত দুই দিনে পরিবারের কাউকে কিংবা আইনজীবীদের দেখা করতে দেয়া হয়নি।

পরিবারের ওই সূত্রটি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, এখন প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন এবং রাষ্ট্রপতি তা খারিজ করেছেন-এমন তথ্য দিয়ে সালাউদ্দিনের ইমেজ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

এদিকে, বিবিসি বাংলার অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের প্রাণভিক্ষা চাওয়ার যে খবর দিচ্ছে তা অবিশ্বাস্য বলে দাবী করছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই নেতার পরিবারের সদস্যরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র শনিবার দুপুরে বিবিসিকে জানায় যে, মি. চৌধুরী ও মি. মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।কিন্তু মি. মুজাহিদের ছেলে আলী আহম্মেদ মাবরুর বিবিসিকে বলেছেন, প্রাণভিক্ষা চাওয়ার যে খবর আসছে সেটি সঠিক নয় বলে তারা মনে করেন।

তিনি আরো বলেন, তারা যখন তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছেন তখন তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন না।

সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরীও এ খবরটিকে অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তারা আইনজীবীর মাধ্যমে দুদিন ধরে মি. চৌধুরীর সাথে দেখা করতে চেষ্টা করছেন কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছেন। মি. চৌধুরীর সাথে দেখা করা গেলে এ বিষয়ক বিভ্রান্তি দূর হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে আজ (শনিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে মিসেস চৌধুরী বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন করাটা মি. চৌধুরীর ব্যক্তিগত ব্যাপার। আইনজীবীদের সাথে কথা বলে তিনি নিজেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন না বলে জানিয়েছে তার দল বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল)।

মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বিএনপির এই নেতার ব্যাপারে তার দলের পক্ষ থেকে শনিবার বিষয়টি জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এদিকে, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এডভোকেটের নিকট জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ক্ষমা চেয়েছেন’ মর্মে বিভিন্ন অনলাইন ও গণমাধ্যমে যে খবর প্রচারিত হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।

আজ (শনিবার) বিকেলে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতি তিনি বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে কারা অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে, ‘জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ মাহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেছেন। প্রচারিত এ খবরটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

পরিবারের সাথে সাক্ষাতকালে জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষার বিষয়ে আইনজীবীদের সাথে পরামর্শের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তিনি পরিবারের নিকট প্রাণভিক্ষার বিষয়ে কোন বক্তব্য দেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে জানানো হয়েছে যে, জনাব আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ আইনজীবীদের সাথে পরবর্তী আইনী বিষয়ে পরামর্শ করতে চান।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আইনজীবীগণ মুজাহিদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে কারাকর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন। কারাকর্তৃপক্ষ মুজাহিদের ইচ্ছা অনুযায়ী এখনো আইনজীবীদেরকে সাক্ষাতের অনুমতি দেননি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্ষমা চাওয়ার যে খবর প্রচারিত হচ্ছে তা সঠিক নয়।

কারাকর্তৃপক্ষকে মুজাহিদের সাথে আইনজীবীদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য কারাকর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, আইনজীবীদের সাক্ষাৎ এবং কারা কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল বক্তব্য আসার আগে বিভ্রান্তিমূলক ও নোংড়া অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

কেবি