অবশেষে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সরকার দলীয় এমপি শামীম ওসমানও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনিদিষ্ট অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন ।
দুদকের টানা ১৪ বছরের নাটকীয় অনুসন্ধানের মাথায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব অত্যন্ত গোপনীয়তার মাধ্যমে নারায়গঞ্জের এমপি শামীম ওসমানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আয়োজন করেন। তিনি এ বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবগত করেন।
কিন্তু মিডিয়াকে এরিয়ে যাবার জন্য এমপি শামীম ওসমানকে অব্যাহতির বিষয়টি দুদক এবং সরকার গোপন রেখেন। সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে নানা কানাগোষা শুরু হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের অক্টোবরে শামীম ওসমানের জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অর্থাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য সম্বলিত একটি অভিযোগ তৎকালিন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে জমা হয়।
২০০২ সালে ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমতি দেয়া হয়।
দুর্নীতি দমন ব্যুরোর প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচা থেকে ওইবছর ১৫ এপ্রিল অনুমোদনের চিঠি নারায়ণগঞ্জের জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
শামীম ওসমান সপরিবারে বিদেশে চলে গেলে নোটিশ জারি করা যায়নি। এরপর থেকে এ বিষয়ে আর কোনো কার্যক্রম চলেনি।
জানা যায়, ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত হওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনে বিলুপ্ত ব্যুরোর সব অভিযোগ ও মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অনিষ্পন্ন সেল’ নামে অনুবিভাগ গঠিত হয়। এ অনুবিভাগ ব্যুরোর আমলের প্রাপ্ত অভিযোগ ও মামলা পর্যালোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করছে।
কিন্তু শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগটিও অনিষ্পন্ন সেলে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকে। ২০১৪ সালের ১০ মার্চ শামীম ওসমানের বিষয়টি অনুসন্ধানের লক্ষ্যে দুদকের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে নিয়োগ করা হয়।
তিনি ২০০৭ সালে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা একই রকম অন্য একটি মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই-মর্মে বিষয়টি নথিভুক্তির সুপারিশ করেন। এ প্রেক্ষিতে কমিশন গত বছর ১৭ নভেম্বর অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন।
জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনের ( ১/১১) পরবর্তী সরকারের সময় সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে একটি ‘নন-সাবমিশন’ মামলা করে দুদক।
তার অনুপস্থিতিতে মামলার বিচার চলে। ওই মামলায়তার ৩ বছর সাজা হয়। পরে তিনি দেশে ফিরে বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। হাইকোর্ট শামীম ওসমানের সাজা বাতিল করেন।
একে





