দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় “যুক্তরাষ্ট্রের চোখে জামায়াত হবে ‘বোকো হারাম’?” শিরোনামে মিজানুর রহমান খান কর্তৃক লিখিত প্রতিবেদনে জামায়াত সম্পর্কে যে সব অবান্তর বক্তব্য রাখা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘যুক্তরাষ্ট্রের চোখে জামায়াত হবে ‘বোকো হারাম’?’ শিরোনামে জনাব মিজানুর রহমান খান কর্তৃক লিখিত প্রতিবেদনে জামায়াত সম্পর্কে যে সব অবান্তর, অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক বক্তব্য রাখা হয়েছে তা নিতান্তই দুঃখজনক। জনাব মিজানুর রহমান খান তার প্রতিবেদনে যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা তার বেসামাল মনেরই পরিচয় বহন করে। তিনি কেন, কোন রহস্যজনক কারণে দিশেহারা হয়ে পড়লেন তা জনগণের নিকট এক বিরাট জিজ্ঞাসা।

তিনি বলেন, এই কলামে অসত্য ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য এনে মূলতঃ জনগণকে বিভ্রান্ত করার অবাঞ্ছিত কূটকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে মাত্র। তিনি জামায়াত নিষিদ্ধ করা সম্পর্কে এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে যে সব অপবাদ রচনা করেছেন তা এ দেশের জনগণের কাছে হাস্যকর। তিনি জামায়াতকে নাইজেরিয়ার জঙ্গি সংগঠন ‘বোকো হারাম’-এর সাথে তুলনা করে নিজের মস্তিষ্কের সুস্থতা সম্পর্কে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক ধারা সন্নিবেশিত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে তা এ দেশের জনগণের নিকট অত্যন্ত স্পষ্ট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনাব খান স্বীকার করুন আর নাই করুন জামায়াতের অব্যাহত অগ্রগতিতে দিশেহারা হয়ে আওয়ামী সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা বিশ্বের কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বরং তা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা ও শহীদ কামারুজ্জামানকে হত্যা করার পর এ দেশের মানুষ জামায়াতের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হয়েছে।

তিনি হয়তো জামায়াতের আদর্শিক রাজনৈতিক উত্থানে তার লালিত রাজনৈতিক আদর্শের পতন ধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন। যার কারণে বিবেকবর্জিত আবোল-তাবোল কথা বলা শুরু করেছেন।

হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা, নিশ্চিহ্ন, উৎখাত ও নির্মূল করার ঘোষণা যারা দিয়েছেন তারা বাংলাদেশের জনগণের মন থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। তারা তাদের হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির কারণে একটি ফ্যাসিষ্ট শক্তি হিসেবে জনগণের নিকট চিহ্নিত হয়েছেন। জামায়াতের বিরুদ্ধে অব্যাহত অপবাদ, অপপ্রচার সত্ত্বেও বিগত উপজেলা নির্বাচন এবং সম্প্রতি প্রহসনের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতি জনগণের ভালবাসা বিবেচনায় নিয়ে জনাব মিজানুর রহমান খান আত্মসমালোচনা করে দেখতে পারেন যে, তার মতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নেই।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনমত যাছাই করে দেখার জন্য জনাব খানকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, একবার জনগণের কাছে গিয়ে জামায়াত সম্পর্কে আপনার মনোভাব ব্যক্ত করে দেখুন, জনগণ আপনাকে কিভাবে মূল্যায়ন করে। আপনি যে সমস্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য আপনার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, তা জনগণের নিকট একটি চিহ্নিত মহলের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিবৃতিতে এমন কলাম রচনার নামে জামায়াতবিরোধী মিথ্যা কল্পকাহিনী রচনা থেকে মিজানুর রহমান খানকে বিরত থাকার আহ্বান জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।

কেএইচ