দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবিনতি হয়েছে এবং সেই সংকট সামাল দিতে সরকার ক্রসফায়ারের পথ বেছে নিয়েছে-এমন দাবি করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দু’চারজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর পর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরও ক্রসফায়ার দেওয়া হবে।

ক্রসফায়ারের সংকটের সমাধান হবেনা মন্তব্য করে এই পথ থেকে সরে এসে আইনের শাসন চালু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রিপন।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের দুই নেতার ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘ওই ঘটনার পর ছাত্রলীগ বলছে, ক্রসফায়ার মানা যায়না; মন্ত্রী বলছে, এ্যাকশন শুরু। এর মাধ্যমে প্রকারান্তে মন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন, সরকার ক্রসফায়ার করছেন। অথচ এতোদিন ক্রসফায়ারের বিষয়টি সরকারের তরফ অস্বীকার করা হতো। কিন্তু এখন খোদ সরকারের মন্ত্রী বলেছেন, এ্যাকশন শুরু। এ্যাকশন মানে ক্রসফায়ার। ধানমন্ডি এলাকার এমপি ফজলে নুর তাপসও এর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটা মানা যায়না।’

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ক্রসফায়ার আইনসিদ্ধ নয়, এটা সবার স্বীকার করতে হবে। নিন্দা করতে হবে। যখন বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারে নেওয়া হয় তখন যদি বলতেন এটা মানা যায়না, আমরা সাদুবাদ জানাতাম।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ার দেওয়া হলে তারা সন্ত্রাসী হয়ে যান, আর ছাত্রলীগ ক্রসফায়ার হলে এটা মানা যায়না। এক যাত্রায় দুই নীতি কী করে হয়-ক্ষমতাসীনদের প্রতি এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিএনপি কোনো ধরনের ক্রসফায়ার সমর্থন করেনা জানিয়ে রিপন বলেন, ‘ক্রসফায়ার কোনো সমধান নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই অবনতি ঘটেছে যে সেটাকে সামাল দেওয়ার জন্য আইনি পদক্ষেপের বিপরীতি সরকার ক্রসফায়ার দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চান। আতঙ্ক তৈরি করতে চান। আমরা আশঙ্কা করছি, সরকার দু’চারটি আওয়ামী লীগের লোক মেরে তারপর বিরোধী দলের লোকজনকেও মারা হবে।’

সকল প্রকার ক্রসফায়ারকে নিন্দা জানিয়ে সরকারকে এই পথ থেকে সরে আসারও আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘সারা দেশে ধর্ষন বেড়ে গেছে। বুধবারও রাজধানীতে ৩জন নারী ধর্ষিত হয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্বৃত্তপরায়ণ, ইয়াবার সা¤্রাজ্য বেড়ে গেছে। এ সরকারের এমপি বদের বদি সে দুর্বৃত্তপনা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার হাতে সবাই লাঞ্চিত হচ্ছেন। এখন কী বদিদের ক্রসফায়ার দিয়ে সমাধান করতে হবে?’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে দায়ী করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে সংকটের শুরু। এই সংকটের সমাধান করতে পারলে ক্রসফায়ারের কোনো প্রয়োজন পরবেনা। শক্তিশালী বিরোধী দল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হলে সমাজের ভারসাম্য থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এআই