[quote]জনগণ ক্ষুদ্ধ হওয়ার পূর্বে আলোচনার মাধ্যমে সকল দলের অংশ গ্রহণে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও  সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারস ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অহংকার স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীর উত্তম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।আওয়ামী লীগ নয় বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদানকে আমরা খাটো করে দেখিনা। কিন্তু তারা অন্যের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়। এটাই তাদের (আওয়ামী লীগের) চরিত্র। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে না বিএনপি করে।বেগম জিয়া বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই জিয়াউর রহমান বসে থাকেননি। তিনি দেশকে স্বাধীন করতে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তিতে দেশের প্রয়োজনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ধাবিত করেছেন।খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরুন। অন্যথায় আমাদের নতুন প্রজন্ম এর সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে না।[/quote]
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের নাম শুনলেই ভয় পায়। এজন্য আজকের এই অনুষ্ঠানটি স্বাধীনতা ঘোষণার স্থান চট্টগ্রামের কালুরঘাটে করার কথা ছিল। কিন্তু সরকার সেটির অনুমতি দেয়নি।
বেগম জিয়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাস্ট্রপতি আখ্যায়িত করে বলেন, সত্যিকারের ইতিহাস যখন লেখা হবে তখন আওয়ামী লীগ স্বীকার করুক আর না করুক বিশ্বের মানুষ সেটা মেনে নিবে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, সাবেক রাস্ট্রপতির স্ত্রী হিসেবেও নয়, মহান স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেই আমি গর্ব বোধ করি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চায় না ।তারা চায় বহু দলীয় গণতন্ত্র ,আইনের শাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় বসে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তাদের হাতে দেশ ও দেশের মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নেই। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগনের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলা।যাতে করে তাদেরকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা যায়।
ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার ও সংসদ অবৈধ এমনকি তাদের কাজকর্মও অবৈধ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে যে ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তা স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী।আর এই মানবতাবিরোধী কাজের জন্য আওয়ামী লীগকে একদিন জবাব দিতে হবে। এমনকি আদালতের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশব্যাপী খুন,গুম বন্ধ করার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে না। কারন তাদের একমাত্র লক্ষ্যই হলো আজীবন ক্ষমতায় থাকা।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আপনাদের আবারও জেগে উঠতে হবে। আমি বলছি না আবারও যুদ্ধ করতে হবে।এখন আপনাদেরকে আজকের প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করতে প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এখন সময় তোমাদের তাই দেশ রক্ষা ,দেশের মানুষের জান মাল রক্ষায় মিথ্যাবাদী, দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ সরকারে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই অল্প সময়ের মধ্যে দেশে শান্তি ফিরে আসবে দেশের মানুষ সম্মান পাবে।
বর্তমান ক্ষতাসীন সরকার দেশকে অন্যের হাতে তুলে দিতে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের উপর দিয়ে নানা রকম ধকল গেছে। তারপরও আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত করি নাই আপোষ করি নাই। ভবিষ্যতেও করবো না গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাব।
এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে রনাঙ্গণের যুদ্ধ করা ৬জনকে মুক্তিযুদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা প্রাপ্তরা হলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম (মরণোত্তর), ল্যান্স নায়েক আবুল হাসেম (বীর বিক্রম), ক্যাপ্টেন আবদুল হাই (বীর বিক্রম), মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিবিসিতে (ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন) কর্মরত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধে অংশ নেওয়া নারী মুক্তিযোদ্ধা আলম তাজ বেগম ছবি এবং মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম (বর্তমানে রিকশাচালক)।
তবে তাজ বেগম ছবি ও নুরুল ইসলামকে ক্রেস্ট দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে নগদ ১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তাও করা হয়।
খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার আগে বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম ক্যামব্রি্জ  নির্মিত ‘দ্যা লিজেন্ড অব শহীদ জিয়া অ্যান্ড দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে.(অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধূরী বীর বিক্রম, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেস্টা পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম প্রমুখ।
ঢাকা, এমএইচ, ২৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর