রাস্তায় নামলেই গ্রেফতার ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। এক দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রেফতার ও হয়রানি করছে, অপর দিকে সরকার সমর্থকেরা বাধা দিচ্ছে, হামলা চালাচ্ছে, নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।

এমন কি গতকাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরও বাধার মুখে পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় দিনের বেলায় পুলিশ প্রচারণায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের শনাক্ত করে রাখছে, আর রাতে বাড়ি বাড়ি তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। তাদের খুঁজে না পেলে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছে।

গত শনিবার রাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি নেতা কাজী হাসিবুর রহমান ওরফে শাকিলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে হরতালে বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও হামলার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

এ দিকে গত শনিবার রাতে রাজধানীর ১৪৫/এফ শান্তিনগর বাজার রোডের বাসা থেকে আটক হন এম এ আজিজ নামে এক ব্যক্তি। তিনি ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগমের সমর্থক।

ওই প্রার্থীর অপর এক সমর্থক বলেন, তারা বিকেলের দিকে শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। এ সময় পুলিশ তাদের শনাক্ত করে রাখে। রাতে তারা বাসায় ফেরার পরে কয়েকটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। পল্টন থানার এসআই শফিক এম এ আজিজকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

আজিজের পারিবারিক সূত্র জানায়, সত্তরোর্ধ্ব এম এ আজিজ একজন মুক্তিযোদ্ধা। পুলিশ তাকে পল্টনের গাড়ি পোড়ানো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আঞ্জুমান আরা বেগমের এক সমর্থক জানান, রাতের আঁধারে কে বা কারা তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। শান্তিনগর, চামেলীবাগ, পীরের গলি, নয়া পল্টন, পুরানা পল্টন লাইনসহ বিভিন্ন এলাকার পোস্টার ছেঁড়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এর এক দিন আগে শাহজাহানপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মাহমুদুর রহমান লাবুসহ তিন-চারজন। তারা একজন মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পরই তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। গতকালও পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকেরা তার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এ সময় প্রচারণায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়েছে।

গতকাল দুপুর ১২টায় আফরোজা আব্বাস নির্বাচনী প্রচারণায় রায়েরবাজার থেকে বৌ-বাজার এলাকায় যান। এ সময়ে স্থানীয় থানার এসআই শাজাহানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম বৌ-বাজারে ঢুকতে বাধা দেন। ফলে আফরোজা আব্বাস তার দলবল নিয়ে বৌ-বাজার এলাকায় না ঢুকে বাবুবাজারের দিকে চলে যান।

এ ব্যাপারে হাজারীবাগ থানার ওসি মাইনুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, আফরোজা আব্বাস বৌবাজার এলাকায় যাবেন এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের দেয়া হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে শুধু ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তারা প্রচারণা চালাবেন। অপর দিকে ওই এলাকায় সাঈদ খোকনের প্রচারণা চলছে। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে। তাই তাদের বাধা দেয়া হয়েছে।

বিকেলে আফরোজা আব্বাসকে ফের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয় পুলিশ। সাড়ে ৩টার দিকে সায়েন্সল্যাব এলাকার এলিফ্যান্ট রোডে আফরোজা আব্বাস নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে বাধা দেয়।

কেন তাকে বাধা দেয়া হয়েছে জানতে চাওয়া হলে ডিউটিরত পুলিশ অফিসার বলেন, স্লোগানে স্লোগানে এবং বেশি নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালানো যাবে না। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে পুলিশ আটকের চেষ্টা চালায়।

গত বৃহস্পতিবার বংশালে বিএনপি প্রার্থী ইয়াকুব আলী সরকারের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ ইয়াকুব আলী সরকারকে আটকের চেষ্টা করে। এর পর থেকে পুলিশি গ্রেফতার ও হয়রানির ভয়ে তিনি এবং তার সমর্থকেরা মাঠে নামতে পারছেন না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও গতকাল বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডে আওয়ামী লীগের বাধার মুখে পড়েন বেগম জিয়া।

উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তোফাজ্জল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসানের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা খালেদা জিয়াকে কালো পতাকা প্রদর্শন করতে করতে স্লোগান দেন। এতে করে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রথমে রাজউক ভবনের দুই পাশে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা নিজ নিজ দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দেয়। এরপর নর্থ টাওয়ারের দুই পাশেও তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয়।

উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের নর্থ টাওয়ারে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে খালেদা জিয়া বের হলে আবারো গাড়িবহর আটকানোর চেষ্টা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা যখন বেগম খালেদা জিয়ার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছিল তখন পুলিশ ছিল পুরোপুরি নির্বিকার। নয়াদিগন্ত।

ইআর