ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যান্য ছাত্রদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ডাকসুর ভিপি নুরের ওপর  হামলা করার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের ওপর  হামলা করা হয়েছে। তাই আজ আমাদের স্বোচ্ছার হতে হবে। এটা শুধু নুরের ওপর  হামলা হয়, এটা দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপর হামলা।

তিনি ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও ঢাবি ভিসিকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবী জানান।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। একদিকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর  হামলার প্রতিবাদ করছি, অন্যদিকে দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা না পেয়ে কারাগারের অন্তরালে ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এটা শুধু নুরুর ওপর হামলা নয় সারাদশের গনতান্ত্রিক মানুষের ওপর হামলা। যাতে করে সরকার ও তার পেটুয়া বাহিনীকে কেউ কিছু করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, আরেকদিকে একমন্ত্রী (হাসান মাহমুদ) বললেন, নুরুরা ওখানে যাবে কেন। সরকারের বিভিন্ন ভুল ত্রুটি নিয়ে এতো কথা বলবে কেন? এই যে মন্ত্রী তার কথায় প্রমান হয় তিনিই হামলার উস্কানিদাতা, ইন্দনদাতা। এই মন্ত্রীকে (হাছান মাহমুদ) হুকুমদাতা হিসেবে আসামী করা হোক। কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। তাহলে এই মন্ত্রী কেন আইনের উর্ধ্বে থাকবেন?

জয়নুল আবেদীন বলেন, ছাত্রলীগ একের পর এক দেশে তান্ডব লিলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বুয়েটে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক নৈরাজ্য করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বুয়েটে আবরার হত্যার জন্য ছাত্রলীগের রাজনীতি বন্ধ করা হয়েছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের রাজনীতি বন্ধ করা হোক।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিলয়ের নির্বাচিত ভিপি নুরের ওপর ভবিষ্যতে হামলা করা হলে আইনজীবীরা বসে থাকবে না। তিনি যারা হামলার সাথে জড়িত অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ফোরামের সদস্য সচিব মো: ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরীর, আবেদ রাজা, শওকত উল ইসলাম, খোরশেদ মিয়া আলম, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, ওমর ফারুক ফারুকী, শাহ আহমেদ বাদল, উম্মে কুলসুম রেখা, মো: আখতারুজ্জামান, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, মির্জা আল মাহমুদ, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, মো. ফারুক হোসেন, আব্দুল্লা আল বাকী, আরিফা জেসমিন নাহিন, আনিছুর রহমান খান, শরীফ ইউ আহমেদ, নাছির উদ্দিন খান সম্রাট, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, আহসানউল্লাহ, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, আজ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এখন হিটলার মুসলিনীর মতো মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। দেশকে ধ্বংস করা হচ্ছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ মনে করে বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়বাবে জেলে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। এ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কথা বলতে হবে। এ মাসে ঢাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা নিয়ে কথা বলতে হবে? পত্রিকায় দেখলাম ফারাবিকে ২৪ ঘন্টা নাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেছিল। এমন অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আল্লাহ তাকে বাচিয়ে রেখেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি সে যেন বেচে উঠে বন্ধুরা।

এমবি