ঝিনাইদহে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়, পরপর ৭ মেধাবী ছাত্রকে পুলিশকর্তৃক গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও গুমকৃত নেতাদের মুক্তির দাবিতে আগামী ২০ জুলাই বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার (১৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বিক্ষোভের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, মিথ্যা অজুহাতে পরিকল্পিত ভাবে ঝিনাইদহের নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রদের হত্যা করে সরকার ও পুলিশ দেশে বর্বরতার নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছে। বিগত কয়েকদিনে ঝিনাইদহে সরকার ও পুলিশের টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছে নিরপরাধ ৭ জন মেধাবী ছাত্র। তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার ও নির্যাতনের পর রাতের আঁধারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের নৃশংসতা এখানেই থেমে থাকেনি। একই সাথে চলেছে সরকার, পুলিশ ও কিছু গণমাধ্যমের যৌথ প্রযোজনায় স্বীকারোক্তির সাজানো নাটক ও মিথ্যাচার।

পুলিশি কর্মকাণ্ডে অভিযোগ এনে তারা বলেন, গতকাল ঝিনাইদহে শাহিনুর রহমান ও সবুজখান নামে দুই শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ যে স্বীকারোক্তির নাটক সাজিয়েছে তা পুরোটাই বানোয়াট। এই দুইজনসহ আরো ৩ শিবির নেতাকে বহু আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সন্ধান দাবি করে পরিবার ও গত ১৬ই জুলাই ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান করা হয়। পুলিশ তাদের বেআইনি ভাবে গ্রেপ্তার করে গুম করে রেখেছিল এই নাটক সাজানোর জন্যই তা এখন পরিষ্কার। এখনো পুলিশ আরও ৩ শিবির নেতাকে গ্রেপ্তারের পর গুম করে রেখেছে। এতে প্রমাণ হয় নিজেদের হত্যাযজ্ঞ আড়াল ও সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ছাত্রশিবিরকে টার্গেট করে যৌথ মিশনে নেমেছে সরকার ও পুলিশ। এ অত্যাচার ও নিপীড়ণ কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝিনাইদহে চলমান সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের সাথে যখন জঙ্গি নিবরাসের নাম উঠে আসছে ঠিক তখনই পুলিশ নতুন স্বীকারোক্তি নাটক সাজাতে চাইছে। মূলত নিজেদের অপকর্ম থেকে দায়মুক্তির জন্যই এই স্বীকারোক্তির নাটক সাজাচ্ছে বলে জনগণ মনে করে।

তারা বলেন, বিগত কয়েক মাসে কোন প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ঝিনাইদহে প্রায় ২৭ জন নিরাপরাধ ছাত্র জনতাকে হত্যা করেছে। যার দায় পুলিশ কিছুতেই এড়াতে পারে না।

তাই শিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়, পরপর ৭ মেধাবী ছাত্রকে পুলিশকর্তৃক গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও গুমকৃত নেতাদের মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আগামী ২০ জুলাই বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার জন্য তারা ছাত্রশিবিরের সকল নেতা-কর্মী, দেশপ্রেমিক জনতা ও ছাত্রসমাজের প্রতি আহবান জানান।

এমআইএস