যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে শহরে পাল্টাপাল্টি মিছিল করেছে ছাত্রলীগের দুই অংশ। উভয় অংশ থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদগ্রুপ যবিপ্রবি ছাত্র রিয়াদের খুনিদের গ্রেফতার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরে বিশাল মিছিল বের করে। তারা অবিলম্বে হত্যামামলার আসামিদের গ্রেফতার দাবি করে।
অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলগ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, কোতোয়ালি থানার ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা প্রত্যাহার দাবিতে শহরে বিশাল মিছিল করে। দু’পক্ষের মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোটা শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে, শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উভয় মিছিলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে শহরবাসী। এদের মধ্যে বহু মামলার পলাতক আসামিও ছিল।
সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদগ্রুপ মিছিল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার এবং জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। তারা ওই দুই নেতার আস্তানা জ্বালিয়ে দেওয়ারও আহবান জানান।
অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলগ্রুপ ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার, কোতোয়ালি থানার ওসি সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুরূপ স্লোগান দেয়। তারা ভিসি ও ওসির অপসারণ দাবি করে।
শহরে উত্তেজনা-আতঙ্কের বিষয়ে যশোর পুলিশের মুখপাত্র এএসপি রেশমা শারমীন বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শহরে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
যবিপ্রবি ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ সোমবার ছাত্রলীগের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন। সেদিনই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামিম হাসানের জড়িত থাকার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। পরে নিহতের মামা কোতোয়ালি থানায় যে মামলা করেন তাতে উল্লিখিত দুই নেতা ছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলকেও আসামি করা হয়।
খুনের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ এবং যবিপ্রবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকসহ চার ছাত্রকে বহিষ্কার করে।
ঘটনার পরদিন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও তাদের পক্ষাবলম্বনকারী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডটি ভিসির পরিকল্পনায় হয়েছে বলে দাবি করেন।
এর আগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা হত্যাকাণ্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদার ও ছাত্রলীগের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন বিপুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।
খুনের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর জেলা ছাত্রলীগের একাংশ গভীর রাতে প্রায় এক ঘণ্টা থানা ঘেরাও করে রাখে। পরে জেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আফজাল হোসেন, মীর জহুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে বৈঠক করেন।
ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





