বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলছেন, মানুষ এখন বর্তমান সরকারের পরিবর্তন চায়। সে জন্য বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এই পরিবর্তন আনবে। বাংলাদেশের মাটিতে আর একদলীয় নির্বাচন হবে না।

মঙ্গলবার ( ১৬ মে ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ফারাক্কার লংমার্চ দিবস উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই। এ কারণে দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ সীমা ছাড়িয়েছে। বিরোধী দলকে জনসভা করতে দেওয়া হয় না। নেতা-কর্মীরা রাতে বাড়ি থাকতে পারেন না। সবার নামে মামলা।

তিনি বলেন, ‘জেল-জুলুম করে আর কত দিন এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে? আগামী নির্বাচন একদলীয়ভাবে করতে দেওয়া হবে না। আমরা নির্বাচন করব, আন্দোলন করব। আন্দোলন করব এ জন্য, যদি তারা (সরকার) সমঝোতায় না আসে। এমন একটি সরকার নির্বাচনের সময় থাকবে, যে সরকারের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন করতে হবে এ জন্য যে বাংলাদেশের মানুষ এখন বর্তমান সরকারের পরিবর্তন চায়। অনেক বছর হয়েছে, আপনারা শাসন করেছেন। অনির্বাচিত এবং জবাবদিহিহীনভাবে শাসন করছেন, সাড়ে তিন বছর হয়ে গেল। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ এই সরকারের পরিবর্তন আনবে। আমরা ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাব।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত রূপকল্প ২০৩০-এর উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এটা একটি মাইলফলক, একটি সনদ। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। আমরা এটাতে কমিটেড। আজকে সে জন্য অনেকে হিংসা করছে, ঈর্ষান্বিত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি করতে না পারার সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত গেছেন, ভালো আপ্যায়ন পেয়েছেন। ভারত যা চেয়েছে, সবই দিয়েছেন। কিন্তু কিছু নিয়ে আসতে পারেননি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, পানিবিশেষজ্ঞ এস আই খান প্রমুখ।

এমই