পৌর নির্বাচনে নিরপেক্ষ পরিবেশ নেই উল্লেখ করে এই মুহূর্তে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং দলের অভিযোগগুলো বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অবহিত করেছে বিএনপি।
বুধবার সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এই কথা জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান|
মঈন খান বলেন, আজকে এই দেশে যে সমস্যটিতে ভুগছি তা হল গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা নেই। বিরোধি দলের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। তারপরে নতুন করে যোগ হয়েছে পৌর নির্বাচনের ফলশ্রুতি। এ পর্যন্ত ৭ জন মেয়র ১৫০ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে গেছে । এটা কিভাবে সম্ভব। এটা সম্ভব হয়েছে এই কারনেই যে পৌরসভা নির্বাচনের আগেই এক তরফা নির্বাচন হয়ে গেছে। সেখানে বিরোধী দলকে মনোনায়ন পত্র ফাইল করতে দেওয়া হয়নি। এটা কি রকম কথা।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা কিভাবে সম্ভব। হাসতে হাসতে আমাকে জবাব দেওয়া হয়েছে যে দেশে নির্বাচন ব্যতিত সংসদ সদস্য হতে পারেন সেখানে পৌর নির্বাচন ব্যতিত মেয়র, কাউন্সিলর হয় তাতে অসুবিদা কি। এই হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চিত্র।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন কতটুকু অসহায়। আমরা লক্ষ্য করেছি হেলিকাপ্টার দিয়ে একজন সংসদ সদস্য তার এলাকায় গিয়ে তার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাগজ দাখিল করেছে। আমরা অবাক হয়েছি। আমেরিকায়ও কি একজন কংগ্রেসম্যান হেলিকপ্টার দিয়ে এরকম মনোনায়ন পত্র জমা দেন। এই হল বাংলাদেশের গণতন্ত্র। এখানে যে বিরোধী দল নির্বাচন করতে পারছে না শুধু তাই নয়, বিগত দুই সপ্তাহে এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। তার আগেতো হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার করেছে। নির্বাচনের সময়ে যদি আমাদের নেতাকর্মী মাঠে থাকতে না পারে তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কিভাবে হবে।
নির্বাচন দিলাম কিন্তু বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে দিলাম না উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী যে কাজ গুলো করছে সেগুলোতো আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে যাচ্ছে না। কেননা নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য একমাত্র গুরুত্বপূর্ন উপাদান। নির্বাচনের ভূমিকা সঠিক না হলে গণতন্ত্র নিজেই সঠিক হবে না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
নির্বাচন কমিশন কতটা অসহায়। যেখানে এমপি মন্ত্রীরা আচরন বিধি লঙ্ঘন করছে। যেখানে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া আছে সেখানে তারা নিজেরাই প্রশাসনের সহয়তা কামনা করে। ইসি কিছুই করতে পারছে না। এটা হতে পারে না। এটাতে প্রমান করে নির্বাচন কমিশন কতটা অসহায়।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের চিত্র নিয়ে শুধু দেশের জন্য নয়, বাহিরের জন্যও গুরুত্বপূর্ন। আমরা দেশকে যদি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দৃশ্যমান করতে না পারি তাতে করে দেশ হিসেবে শুধু বাংলাদেশ নয় ১৬ কোটি মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য ও সম্মান জড়িত। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন করলে দেশও আওয়ামী লীগের জন্য মঙ্গলজনক।
বৈঠকে বিদেশী কূটনৈতিকদের মধ্যে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের পলিটিক্যাল অফিসার, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সরদার সুজা আলম, আমেরিকা, অষ্টেলিয়ান হাইকমিশনার, জার্মান, বিট্রিশ, তুরস্ক, সিংঙ্গাপুর, সুইডেন, নেপাল, কানাডা, জাপানসহ প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। এছাড়া জাতিসংঘ, ইউএন, প্রতিনিধিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনাম আহমেদ চৌধুরী, রিয়াজ রহমান, শামছুজ্জামান দুদু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা খান প্রমুখ।
এমএইচ





