এইচ এম এরশাদের ভাই জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মানেন না দলটির সিনিয়র কো–চেয়ারম্যান ও এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার প্যাডে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রওশন এরশাদ এ কথা বলেন।

রওশন বলেন, জি এম কাদেরকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করার আগে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়নি। ফলে, জি এম কাদের এখনো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই আছেন।

গত সোমবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার প্যাডে হাতে লেখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আপত্তির কথা জানান তিনি।

এতে রওশন এরশাদ দাবি করেন, যথাযথ কোনও ফোরামে আলোচনা না করেই জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মারফত আমরা জানতে পেরেছি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা আদৌ কোনও যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্বপালনকালে জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র ধারা ২০ (২) এর খ-এ দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। যথা−‘মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০ (২) এর ‘ক’ কে উপেক্ষা করা যাবে না।

আশা করি বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

বিবৃতিতে দলের সব নেতাকর্মীকে গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে এ ঘোষণার প্রতি একমত পোষণকারী আরও সাত জন সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা হচ্ছেন−প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, রওশন আরা মান্নান এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রত্না এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।

এ নিয়ে কথা বলার জন্য জি এম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে দলে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

 

এএস