সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের গাড়িতে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মারামারি করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সহ-সভাপতি। এই ঘটনায় আহত হয়ে ওই দুই নেতাকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।

আহত দুই কেন্দ্রীয় নেতা হলেন-শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ ও তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন মধুর ক্যান্টিনে যান। সেখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। ফেরার সময় তাঁর গাড়িতে উঠতে চান ছাত্রলীগের তিন সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ ও তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির। গাড়িতে তিনজনের মধ্যে কে যাবেন তা নিয়ে তৈরি হয় মতানৈক্য। এক পর্যায়ে শোভন তাঁদের কাউকে না নিয়েই গাড়ি নিয়ে চলে যান।  সভাপতি শোভনের গাড়ি চলে যাওয়ার পর সহ-সভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎকে উদ্দেশ করে বাজে মন্তব্য করেন আরেক সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। মারামারিতে উভয়েরই মাথা ফেটে যায়।  

ওই সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিদ্যুৎকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন আবার মধুর ক্যান্টিনে ফিরে যান। তাঁর গাড়িতে করে আহত জহিরকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

শাহরিয়ার কবির বিদ্যুতের অভিযোগ, শোভনের সমর্থক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির তাঁকে আগে আঘাত করেন। তিনি বলেন, “জহির সিন্ডিকেটের লোক। তাই আমার সাথে তাঁর (জহির) সিন্ডিকেট ও ননসিন্ডিকেট নিয়ে অনেকদিন ধরে ঝামেলা হচ্ছে এবং সে (জহির) জামায়াত পরিবারের সন্তান। আমরা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে তাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেজন্য সে আমাকে টার্গেট করে মেরেছে।”

ত‌বে সাংবা‌দিকরা তার (বিদ্যুৎ) বিরু‌দ্ধেও মাদক ব্যবসার অভি‌যোগ আছে জানা‌লে তি‌নি কোনো উত্তর দেননি।

সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি৷ তিনি (বিদ্যুৎ) কোনো অভিযোগ করে থাকলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়৷”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, মারামারির পর শোভন তাঁর গাড়িতে করে জহিরকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এদিকে ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য নূর হোসাইন ইমন অভিযোগ করেছেন ওই মারামারির ঘটনা ভিডিও করায় ছাত্রলীগ নেতা শোভন তাঁকে গাড়িতে তুলে নেন। তাঁর অভিযোগ পরে শোভন ও তাঁর সমর্থকরা জোর করে ভিডিও ফাইলটি মুছে ফেলেন।

রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, “ওই সাংবাদিকের নিরাপত্তার জন্যই তাঁকে আমি গাড়িতে তুলি।”

এমবি