সরকারের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কতিপয় অতিউৎসাহী সদস্য জনতার উপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেবলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

এক বিবৃতিতে মহানগরী আমীর বলেন, জনতার আন্দোলনে দিশেহারা সরকার এখন রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার ও দলীয় সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে। গণবিচ্ছিন্ন ও গণধিকৃত সরকার অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আইন-শৃংখলাবাহিনীকে জনগণের উপর লেলিয়ে দিয়েছে।

কথিত তল্লাসীর নামে বিভিন্ন বাসা-বাড়ী, অফিস, শিক্ষা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসবাবপত্র তছনছ, ভাঙ্গচুর, লুটপাট ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও।

নিরাপরাধ ও সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলা দিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে আটক করে গুম  এবং কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও ক্রসফায়ারের নামে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। আসলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য যা করছে তা রীতিমত স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।

মূলত সরকার দেশ থেকে বিরোধী দল ধ্বংস করতে খুনের নেশায় মেতে উঠেছে। গত ৩ দিনে অন্তত ৩ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু সরকারকে ভুলে গেলে চলবে না হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়ে ইতিহাসের কোন স্বৈরাচার বা ফ্যাসীবাদী শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর আওয়ামী লীগেরও হবে না।

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিউৎসাহী সদস্যদের স্বেচ্চাচারিতা পরিহার ও বেআইনী কাজ থেকে বিরত এবং সময় থাকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে অবিলম্বে জনতার দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন, সরকারের জুলুম-নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় বাংলাবাজারের মিলিনিয়াম পাবলিসার্স থেকে এস এম লুৎফর রহমান ও প্রগতি ট্রেডার্স থেকে হামিদুর হক মিয়াকে গ্রেফতার করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলা দেয়া হয়েছে।

সরকারের জিঘাংসা থেকে রেহাই পায়নি কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও। আজ সকালে ক্যান্টিন থেকে নাস্তা করে মাদ্রাসায় ফেরার পথে পুলিশ মীরহাজারীবাগস্থ তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ছাত্র হাসানুল বান্না, ওমর ফারুক, মুসান্না, কাওয়ার, উসামা, নাজমুল হক ও তরিকুল ইসলাম নামের ৭ ছাত্রকে গ্রেফতার  করেছে।

গ্রেফতারকৃত এসব ছাত্ররা প্রত্যেকেই ৮ম শ্রেণীর ছাত্র এবং বয়সে কিশোর। এ ছাড়াও পুলিশ কামরাঙ্গীরচর থেকে হাফেজ খোরশেদ নামের ১ জন, সূত্রাপুর থেকে ২ জন, বনানী থেকে ৫ জন, তেজগাঁও থেকে ২ জন ও মিরপুর থেকে শাহীন নামের ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ বনানীর ম্যাচ থেকে ৫ শিবির নেতাকর্মীদের গভীর রাতে গ্রেফতার করে ককটেল উদ্ধারের নাটক মঞ্চস্থ করে চলমান গণআন্দোলনকে নস্যাৎ ও ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু তাদের সে স্বপ্নবিলাস জনগণ কোন ভাবেই সফল হতে দেবে না বরং যেকোন মূল্যে রুখে দেবে।

তিনি আরও বলেন, চলমান অবরোধের ষোড়শ দিনে জনতা মোহাম্মদপুর, আদাবর, খিলগাঁও, রমনা, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, বনানী, তেজগাঁও, কোতয়ালী, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর, সবুজবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা, সূত্রাপুর, শাহজাহানপুর, মিরপুর পশ্চিম, চকবাজার, যাত্রাবাড়ী পূর্ব, কদমতলী পূর্ব, কদমতলী পশ্চিম, কোতয়ালী, পল্টন, পল্লবী, গেন্ডারিয়া ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে অবরোধের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচী সর্বাত্মভাবে সফল করেছে।

জনতার পদভারে রাজপথ এখন উত্তাল। তারা এই ফ্যাসীবাদী ও বাকশালী সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোন ভাবেই রাজপথ ছাড়বে না। তিনি কথিত বন্দুক যুদ্ধ ও ক্রসফায়ারের নামে নির্মম হত্যাযজ্ঞ বন্ধ, দলন-পীড়ন পরিহার ও গ্রেফতারকৃত জোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও গণদাবি মেনে নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় এজন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে।

মাওলানা খান বলেন, চলমান গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন এখন যৌক্তিক পরিণতি ও অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গণবিরোধী সরকার  গণদাবিকে পাশ কাটানোর জন্য জনগণের উপর জুলুম-নির্যাতনে মাত্র বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরকারের মন্ত্রীরা ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিনিয়ত গ্রেফতারের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। আজ পুলিশ বিএনপি নেতা আবু নাসের মোঃ রহমতুল্লাহকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।

তারা রাজনৈতিক সংকটকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান না করে বিরোধী মতের উপর জুলম-নির্যাতন চালিয়ে দেশকে ফ্যাসীবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী দেশে রাজনীতি থাকবে কী না এ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকার দেশে আবারও একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করতে চায়।

আর সে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে বিরোধী মতের টুটি চেপে ধরা হয়েছে। সমান্তরালে চলছে  হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও লুন্ঠনসহ নানাবিধ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।

বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ীতে লুটপাট ও ভাঙ্গচুর চালিয়ে দেশে এক মারাত্মক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু এসব করে জনগণকে কখনোই আন্দোলন বিমুখ ও অধিকার বঞ্চিত করা যাবে না বরং আগামী দিনের আন্দোলন আরও তীব্র হতে তীব্রতর হবে।

তিনি জনতার চলমান অবরোধ কর্মসূচীতে বাধাদান, হামলা, গুম, খুন ও অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ, গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবি এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখতে শ্রমিক, মজুর, শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, বিচারক, ব্যাংকার, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।

এসএইচ