বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ওলামা লীগ এদেশের জনগন ও স্বাধীনতার মতই ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ। ওলামা লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুগত্যে পরিচালিত দল। অথচ আওয়ামী লীগকে ধর্মহীন এবং ধর্মপ্রাণদের থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দল প্রমাণ করতে অনুপ্রবেশকারী বামপন্থীরা ওলামা লীগের বিরুদ্ধাচারণ করছে। মূলত আলিমদের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ভালো হোক এটা তারা চায় না। আওয়ামী লীগকে দ্বীনদারদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় তারা। এসব অনুপ্রবেশকারী বামপন্থীরা আ’লীগকে কিছু দেয়নি। বরং আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে ফায়দা লুটেছে।

জনবিচ্ছিন্ন এসব বামপন্থীদের ওলামা লীগ বিরুধী ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবেনা। আর ওলামা লীগ কখনো হেফাজতের কথা বলেনা বরং ইসলামের কথা বলে। ইসলামের কথা বললেই হেফাজত হয়ে যায়না। হেফাজতের কাছে দ্বীন ইসলাম ঠিকাদারীও দেয়া হয়নি যে, হেফাজত ছাড়া আর কেউ ইসলামের কথা বলতে পারবেনা। বরং ওলামা লীগের দাবির কারণে হেফাজত কোন ইস্যুই খুজে পায়না। জামাত-হেফাযতের ধোয়া তোলা ইসলাম বিদ্বেষীদের কারণে অতীতেও আওয়ামী লীগকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। এরা কখনো আওয়ামী লীগকে কিছু দেয়নি। বরং এরা দলের জন্য কাটা।

গত সোমবার আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী বামপন্থী এবং কিছু মিডিয়ার ওলামা লীগ বিষোদগারের জবাবে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। 

বিবৃতিতে ওলামা লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, কারো কারো অভিযোগ “ওলামা লীগের দাবি হেফাজতের সাথে মিলে যাচ্ছে।” কিন্তু আমাদের কথা হলো- ওলামা লীগ ধর্মপ্রাণ মানুষের সেন্টিমেন্ট বুঝে আগেই বিষয়গুলো উচ্চারণের ফলে সে বিষয়গুলো নিয়ে হেফাজত জামাত কোনো আন্দোলনের ইস্যু তৈরী করতে পারেনি। এবং তা দমনের জন্য সরকারকে কোনো ক্ষমতা ও অর্থ প্রয়োগ করতে হয়নি।

তারা বলেন, ওলামা লীগ বাদ দিয়ে নতুন সংগঠন করা মানে স্ব-বিরোধী বক্তব্য- এবং বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা। কারণ আওয়ামী লীগের নীতি, আদর্শ অনুযায়ী যদি অসাম্প্রদায়িক অঙ্গসংগঠন বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন থাকতে হয়- তাহলে নতুন করে ইসলামী উইং গ্রহণ হয় কী করে? আর যদি ইসলামী উইং গৃহীতই হয় তবে ওলামা লীগ বাদ হয় কী করে। কারণ ওলামা লীগ খোদ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা দেয়া সংগঠন।

তারা বলেন, ওলামা লীগে শুদ্ধিকরণ চলতে পারে কিন্তু বাদ নয়। “মাথা ব্যাথা বলে মাথাই কেটে ফেলা নয়।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, ওলামা লীগ, আওয়ামী লীগের প্রথাগত সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা জোরালোভাবে দাবি করি নাই এবং ওলামা লীগের জন্য তার প্রয়োজনও নেই। কারন ওলামা লীগ কারো কাধে ভর করে চলার মুখাপেক্ষী নয়। ওলামা লীগকে মহান আল্লাহ পাক ইলম আমলের উপর ভর করে এবং মহান আল্লাহ পাকের উপর ভরসা করে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের ধর্মপ্রাণদের উপর ভিত্তি করে চলার জন্য রহমত দান করেছেন। ইনশাআল্লাহ।

তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও নেতৃত্বেই আওয়ামী ওলামা লীগ সারাদেশব্যাপী সুসংগঠিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলিম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের অনেক ভালবাসেন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই ১৯৬৯ সালে আওয়ামী ওলামা পার্টি গঠন করেন। যা ১৯৯৬ সালে এসে যা বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগে রূপান্তরিত হয়। সুতরাং ওলামা লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শুধু ভাতৃপ্রতিম সংগঠনই নয় বরং তারও অনেক ঊর্দ্ধে।

কারণ ওলামালীগের চালিকাশক্তি ও ভিত্তি হলো স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর ইসলামী মূল্যবোধ এবং জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সমূলে বিনাশ করা। প্রসঙ্গত এদেশে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীদের শিকড় যত গভীরে প্রোথিত ওলামালীগের শক্তি তত বেশী উজ্জীবিত। সুতরাং ফু দিয়ে ওলামা লীগকে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। একটা বক্তব্য দিয়ে ওলামা লীগকে শেষ করা যাবে না।

তারা বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনে সুক্ষ কারচুপীর মাধ্যমে যখন আওয়ামী লীগকে পরাজিত করানো হয়, তখন আওয়ামী ওলামা লীগের, ওলামা, পীর-মাশায়েখগণ সুদাসদনে গিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সান্তনা দেন এবং বলেন, আপা আপনি ধর্য্য ধারণ করুন, আপনার জয় সামনে আসছে। ইনশাআল্লাহ! তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুকুম দেন প্রত্যেক জেলায় জেলায়, থানায় থানায় ওলামা লীগের কমিটি গঠন করুন। এবং আলেম সমাজকে নিয়ে মাঠে আন্দোলন গড়ে তুলুন।

তারা বলেন, ২০০২ সালে চার দলীয় জোট হাওয়া ভবনের উস্কানীতে পুলিশ যখন ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মারধর করে কার্যালয় বন্ধ করে দেয়। তখন বর্তমান সেতু মন্ত্রী ওলামা লীগকে ফোন করে বলেন, হুযূর, আওয়ামী লীগ অফিস বর্তমানে কেবল আপনারাই চালু করতে পারবেন। তখন একমাত্র ওলামা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা পীরজাদা পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, মাওলানা হাবীবুল্লাহ রুপগঞ্জী, মাওলানা শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরীসহ আরো অনেক নেতাকর্মী রমনা মসজিদে নামায পড়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে কুরআন শরীফ পাঠ করে মীলাদ শরীফ পড়ে অফিস চালু করেন।

২০০৪ সালে রাসেল স্কোয়ারে হরতালের সময় বিএনপি জামাত জোটের পুলিশী পিটুনী, জেল জুলুম ওলামা লীগের নেতাদেরই সহ্য করতে হয়েছিল। ওলামা লীগের ১০ জন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেখানে বর্তমান মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, শাহজাহান খান, সেক্রেটারী আব্দুল জলীলসহ আরো অনেক নেতারা ছিলেন। আব্দুল জলীল ভাই আমাদের নেতাকর্মীদের জেল থেকে বের করে আনেন। আজ বলা হয় ওলামা লীগ আমাদেও কেউ না। ওলামা লীগের বিরুদ্ধে বিষোধগার করা হয়! মূলত ওলামা লীগের ঋণ কখনো কেউ শোধ করতে পারবেনা।

তারা বলেন, ওলামা লীগের কোনো কোনো দাবির সমালোচনা যারা করেছেন তাদের প্রতি আমাদের বক্তব্য, ইসলাম কি জামাত হেফাজতের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে? যে ওরাই কেবল ইসলামের কথা বলবে। আর ইসলামের কথা বললেই জামাত-হেফাজত হয়ে যায়? জামাত-হেফাযতীরা তো নামাজ, টুপি পড়ে, দাড়ি রাখে। এখন যারা আওয়ামী লীগ করে তারা কি নামাজ, টুপী পড়বেনা, দাড়ী রাখবেনা। অথচ আওয়ামী লীগের লোকজনই বেশি নামায পরেন। অনেকেইরই দাড়ী আছে। তারা টুপী এমনকী লম্বা কোর্তা পরেন।

সুবহানাল্লাহ! এ ধরনের মনমানসিকতা পোষণকারীদের জন্যে আওয়ামী লীগকে নিকট অতীতেও অনেক বড় মাসুল দিতে হয়েছে। এরা আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বামপন্থী নাস্তিকপন্থী ইনু মেননের বংশধর। এইসব বামপন্থীরাই আওয়ামী লীগের মুখোশে ওলামা লীগকে আজ কোনঠাসা করতে চায়। কারন ওলামা লীগের ইসুর কারণে জামাতী হেফাজতীরা কোন ইস্যু অবতারনা করতে পারছে না।

তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বক্তব্য “যে দেশের মানুষ জমি বিক্রি করে হজ্জে যায় সে দেশে ইসলামকে অবজ্ঞা করে রাজনীতি করা যায়না”। আমরা বঙ্গবন্ধুর ধারণ করা সেই ইসলাম মোতাবেক নিঃস্বার্থভাবে মাননীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাব। ইনশাআল্লাহ! বঙ্গবন্ধুর ভাষায়- আমরাও বলবো, আমরা মন্ত্রীত্ব, এমপিত্ব চাইনা। আমরা চাই মদীনার ইসলাম, মদীনার সনদ। ইনশাআল্লাহ!

বর্তমান সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা পুরণ করতেই কাজ করে যাচ্ছে ওলামা লীগ। কারন “কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাশ হবে না” বর্তমান সরকারের এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আরেকটি প্রতিশ্রুতি ছিলো, “ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করা হবে” এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে বর্তমান সরকার যাতে সফল হয় এবং জামাত জোট তথা ধর্মব্যবসায়ী সব মহলের সব ষড়যন্ত্র থেকে বর্তমান সরকারকে রক্ষার জন্যই ওলামা লীগ নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ।

বিবৃতি দাতারা হলেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহ-সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ লায়ন মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর ছিদ্দীক্ব সহ-সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ-সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি সহ-সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, হাজী হাবীবুল্লাহ রূপগঞ্জী প্রমুখ।

বিজ্ঞপ্তি