ডিবি পরিচয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে এ্যাডভোকেট ইমরুল কায়েসকে নির্মমভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
আজ সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।
মহানগরী আমীর বলেন, জনগণের ক্ষোভ এখন গণবিস্ফোরণে রূপ নিতে শুরু করেছে। পক্ষকাল ব্যাপী জনতার অবরোধ কর্মসূচী যৌক্তিক ও কাঙ্খিত পরিণতির দিকেই আগ্রসর হচ্ছে।
ফ্যাসীবাদী, জুলুমবাজ ও বাকশালী সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সরকার গণআন্দোলনকে বিভ্রান্ত ও নস্যাৎ করতেই দলন-পীড়ন ও নিগ্রহের পথ বেছে নিয়েছে।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখী দাঁড় করানো হয়েছে। সরকার ও সরকারি দলের হত্যা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কারণে গোটা দেশেই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।
গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস, জুলুম-নির্যাতন, অপশাসন-দুঃশাসনের কারণে সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে দলন-পীড়ন চালিয়ে এখন নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার ষড়যন্ত্র করছে।
কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতার পদভারে এখন রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে। অবরোধের চতুর্দশ দিনে গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিক্ষুব্ধজনতা রাজধানীর রমনা, তেজগাঁও, শাহজাহানপু, উত্তরা, মিরপুর, দারুসসালাম, কল্যাণপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধের সমর্থনে রাজপথে নেমে এসে ফ্যাসীবাদী ও গণবিরোধী সরকারের প্রতি গণঅনাস্থা জানিয়েছে।
অবরোধ চলাকালে পুলিশ দারুসসালাম থেকে ১, আদাবর থেকে ১২, কামরাঙ্গীরচর থেকে ১, রমনায় ১, ক্যান্টনমেন্ট থেকে ৩ , তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে ১ এবং কাফরুল থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও অধিকার আদায়ে সচেতন জনতা সরকারের শত জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে অবরোধ কর্মসূচী পুরোপুরি সফল ও সার্থক করেছে।
তিনি দলন-পীড়ন পরিহার ও আটককৃত জোট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও জনতার দাবি মেনে নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারের জন্য করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের রাজনৈতিক, অসাংবিধানিক ও বেআইনী বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল হতে জটিলতর করে তুলেছে।
দেশের সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহলসহ সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহল চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন-উৎকন্ঠিত ও একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে সংলাপের উপর গুরুত্ব দিলেও সরকারের অবৈধ ক্ষমতালিপ্সার কারণেই তারা জনতার আন্দোলনকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দমনের জন্য রাষ্ট্রীয় ও দলীয় শক্তির অপব্যবহার এবং জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের কন্ঠরোধ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
কিন্তু সরকারের সে ষড়যন্ত্র জনগণ কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।
তিনি আরও বলেন, ফাসীবাদী ও গণবিচ্ছিন্ন সরকার ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পক্ষকালের অধিক সময় ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেই হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন চালিয়ে চলমান সরকার পতনের আন্দোলন নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে চায়।
সে ধারাবাহিকতায় নড়াইল পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর এ্যাডভোকেট ইমরুল কায়েসকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ১৭ জানুয়ারী ঢাকাস্থ এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আটক করার পর হত্যা করে।
আজ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে তার লাশ পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইনের বাসভবনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ৬ টি কম্পিউটার ও আসবাবপত্র লুটপাটসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
আদাবর থানার সেক্রেটারী আ ন ম হাসান নো’মানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ৯ টি কম্পিউটার, ৫ টি ল্যাপটপসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে যায় এবং ৪ জন নিরীহ কর্মচারীকে গ্রেফতার করে তাদের বাড়ীতে গিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ছোট ভাইকেও গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
মূলত বেসামাল সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্যই গুম হত্যা-সন্ত্রাস ও গ্রেফতার জুলম-নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী জালিমরা সবসময়ই পরাজিত হয়েছে, আর মজলুমরাই বিজয়ী হয়েছেন।
তিনি এ্যাডভোকেট ইমরুল কায়েসকে হত্যা, চলমান অবরোধ কর্মসূচীতে বাধাদান, হামলা ও অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ এবং গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবি এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখতে শ্রমিক, মজুর, শিক্ষক-ছাত্র, আইনজীবী, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল, বিচারক, ব্যাংকার, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
এসএইচ





