প্রকৃত জঙ্গি ধরা হচ্ছে না, আন্দোলনরত বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের ধরে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।
সংবাদপত্রের কালো দিবস পালন উপলক্ষে আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট আয়োজিত 'গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আজকের বাস্তবতা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তার চলছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আন্দোলনরত বিরোধী দলের নিরাপরাধ, নিরীহ কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। প্রকৃত কোন জঙ্গিকে ধরা হয়নি, সন্দেহভাজন বলে যে ১৪৫ জনের মত ধরা হয়েছে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিরোধী দলের যেসব নেতা কর্মীদের ধরা হয়েছে তাদের কাছ থেকে এখন জঙ্গি বলে স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেভাবেই হোক বিরোধী দলকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল করিম খানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, কল্যাণ পার্টি মহাসচিব এম.এম. আমিনুর রহমান, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাবুল, কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের খবর গণমাধ্যমে সঠিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অধিকাংশ মিডিয়ার মালিক হয় সরকারের পক্ষের না হয় ভয়ে মুখ খুলছেন না। কিন্তু এর পরিণাম ভালো হবে না। আপনারাও এই স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে রেহাই পাবেন না।
ভারতের কাছে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য হল তোদের যত লাগে নে, শুধু আমার সিংহাসন আর মুকুটটি যেন ঠিক থাকে। আর তারা বলছে হাসিনা অকৃত্রিম বন্ধু। বন্ধু আপনাদের হতে পারে দেশের মানুষের না।
সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর মহিউদ্দন বলেছেন, ১৯৭৫-এর ১৬ জুন বাংলাদেশের সংবাদপত্র শিল্পে নেমে এসছিল কালো অমানিশার ঘোল অন্ধকার। সূচনা হয়েছিল এক কলংকময় ইতিহাসের। আমরা নিজেরাই আজ সেই কালো দিবসকে ভুলতে বসেছি। কারণ আমাদের মাঝে অনেকেই আজ নিজেরে বিবেককে শাসকগোষ্টির কাছে বন্ধক রেখেছি।
তিনি বলেন, আমার সাংবাদিকতার ৫৫ বছরের জীবনে এম দুঃসময় আর কখনো আসেনি।আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, একটি গণতান্ত্রি রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সকল সময়ই ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রন করেছে আর সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে টুটি চেপে হত্যা করেছে। বর্তমানেও আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে কলংকিত করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী একদদলীয় ও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ঘনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে রুদ্ধ করেছে।
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ৭৫-এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের উপর নগ্ন হামলা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতার সময় তারা বন্ধ করে দিয়েছিল দৈনিক বাংলা, টাইমস্, বিচিত্রা, আনন্দ বিচিত্রা, আর বর্তমানে বন্ধ করেছে দৈনিক আমারদেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি। সকল কিছু মিলিয়ে প্রমানিত হয় আওয়ামী লীগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিশ্বাস করে না।
এম.এম. আমিনুর রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোন বিকল্প নাই। গণতন্ত্রের স্বার্থেই সরকারের উচিত অবিলম্বে বন্ধ সকল গণমাধ্যমকে চালু করার ব্যবস্থা করা। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ার দায় থেকে আওয়ামী লীগ কখনো মুক্তি পাবে না।





