মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রহসনমূলক রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখাকে সরকারের সাজানো নাটক উল্লেখ করে বিবৃত প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, রাজনৈতিক অসৎ উদ্দ্যোশ্য চরিতার্থ করতেই এই ন্যায়ভ্রষ্ট রায় দেয়া হয়েছে।

একটি মহলের ইশারায় একের পর এক জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি মৃত্যুদন্ড প্রদান করে চলেছে ট্রাইব্যুনাল।

কিন্তু আপিল বিভাগ থেকে মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। নানা বিতর্কের পরেও মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রায় বহাল রাখা হয়েছে।

শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতেই মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে এই সাজনো বহাল রাখা হয়েছে বলে মনে করে সচেতন দেশবাসী। সাজানো এ রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলা, সাক্ষী ও তদন্ত সব ছিল বানোয়াট। চট্টগ্রামের যে ঘটনার সাথে তাকে জড়ানো হয়েছে তার সাথে মীর কাসেম আলীর কোন সম্পর্ক নেই।

তিনি সে সময় ঢাকায় ছিলেন। তাছাড়া তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং রাষ্ট্রপক্ষের দাখিলকৃত তথ্য প্রমানাদি এবং সে সময়ে দৈনিক আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় মীর কাসেম আলীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রকাশ সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণ করে তিনি সে সময় ঢাকায় ছিলেন।

মীর কাসেম আলীর পক্ষে চট্টগ্রামের দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষী দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল ১৯৭৭ সালে জন্ম নেয়া সাক্ষী আর মিথ্যাচারকে পুঁজি করে এ মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল।

সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্য রাষ্ট্রপক্ষকে বলেছেন যে ‘আপনাদের ডকুমেন্টেই রয়েছে, ঘটনার সময় মীর কাসেম আলী ঢাকায় ছিলেন’। তার কথায় রেশ ধরে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামও বলেছেন, যে এর পর আর মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার সুযোগ নেই।

তাছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতিটি অভিযোগের ঘটনার বিবরণে ভিন্নতা ও তথ্যে অসংলগ্নতা ছিল স্পষ্ট। তারপরও কিভাবে তার মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা যায় তা বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষের প্রশ্ন। কোন বিশেষ মহলকে খুশি করতেই এই রায় বহাল রাখা হয়েছে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামান্যতম বিবেচনা বোধ সম্পন্ন মানুষ এ রায় মেনে নিতে পারেনা।

শিবির নেতারা বলেন, আদালতকে জনগণ ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু নেতৃবৃন্দের উপর বার বার যে অবিচার করা হচ্ছে তাতে জাতি হতাশ।

জনগণ বার বার বিচারের নামে অবিচার দেখতে প্রস্তুত নয়। এ রায়ের রিভিউ আবেদন করা হবে।

আমরা আশা করি তিনি রিভিউর মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। তার মুক্তির মাধ্যমে আদালতের প্রতি মানুষের পূর্ণ আস্থা ফিরে আসবে বলেও মন্তব্য শিবির নেতাদের।

ওএফ