নির্বাচনে কারচুপি সরকারের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে বলে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য ও আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহবায়ক অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তারা এ বদঅভ্যাস পাল্টাতে পারছে না।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অল কমিউনিটি ফোরাম আয়োজিত 'সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা না করাই ভাল। কারণ আমার জীবনে এ রকম নির্বাচন আর দেখি নাই। সিটি নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে সরকারের ক্ষমতা বা সরকার পরিবর্তন হতো না। এ নির্বাচনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হলে সরকারের পতনও হতো না, আর দূর্নামও হতো না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অপদার্থ কমিশন। নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা প্রশান করতে পারে নাই। তারা জনগণের মনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। তবে তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন জাগবে কি নির্বাচন হয়েছে। সির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ি।

ইসির কর্মকান্ডের সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপচার্য বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার কোন পরিকল্পনা সরকার ও ইসির ছিল না। তাই তারা সেনাবাহিনী মোতায়েন করেনি। তারা জানতো দেশের গর্বীত সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে করচুপি করে জয়ী হওয়া যাবে না।

অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন সরকার ও ইসির প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় কোন নিয়মের তোয়াক্কা ছিল না। নির্বাচনের সময়ে বিরোধী দলের প্রার্থী গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে প্রার্থীদের প্রচারণা করতে দেওয়া হয় নাই। প্রার্থীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও কারচুপি করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সরকার। আমাদের কাছে সব রেকর্ড আছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্থাপন করা হবে।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, অল কমিউনিটি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. কাবিরুল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

এমএইচ/এমকে