আওয়ামী লীগ  সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তিনি (জিয়া) মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন। তা না হলে তাকেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি করতাম।’
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় সোমবার সন্ধ্যায় তিনি এ কথা বলেন। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এটিই প্রথম যৌথ সভা দলটির।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক জিয়াকে সেনাপ্রধান করে। মোশতাক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী,তার মানে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সম্পৃক্ততা আছে। মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন, নইলে তাকেও আসামি করতাম। আসামি করতাম, এটাই পরিষ্কার কথা।’
এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার ও আমার পরিবারকে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল।’
বাজেট অধিবেশনে প্রথম যে আলোচনা করবে তাকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন,‘ওপেনিং ব্যাটসম্যানকে হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাজেটের লক্ষ্য সংসদ সদস্যরা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। সংসদ সদস্যদের বক্তৃতা দেবার সুযাগ মুলত দুইবারই আসে। তা হল মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ আলোচানা ও বাজেটের ওপর আলোচনা।’
তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা খুব বেশি সীমাবদ্ধতা থাকে না কারণ তখন পার্লামেন্ট আমরা যতদিন খুশি চালাতে পারি। কিন্ত বাজেট অধিবেশনে সেই সুযোগটা খুব বেশি থাকে না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে পাস করতে হবে। এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে সরকারি ছুটি থাকে। সেই সূচিটা দেখে নিয়েই বাজেট পাস করতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে এটাই আওয়ামী লীগের প্রথম যৌথ সভা। একদিকে দলকে যেমন সুংগঠিত করতে হবে অপরদিকে একটি সুনির্দষ্ট লক্ষ্য স্থির করেই আমরা সরকার পরিচালনা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। যেখানে অনেক উন্নত দেশ হোঁচট খেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ সবদিক দিয়ে ভাল করেছে।’
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্যের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যেরও সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি তো ১৯৭০, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে আনকনটেস্টেড জিতেছিলেন। এখন তিনি এ নিয়ে কথা বলেন কিভাবে?’
বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও পার্লামেন্টারি পার্টির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
[b]ঢাকা, ২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ
[/b]