লন্ডনে মাওলানা নিজামীর মুক্তির দাবিতে সমাবেশ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে স্বারকলিপি প্রদানকরেন লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশে।

লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের তথাকথিক ট্রাইবুন্যাল মাওলানা নিজামীর প্রশ্নবিদ্ধ রায়ের মাধ্যমে আবারও নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন অপপ্রয়াস বাস্তবায়নের জন্য এই রায়।

কথিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালকে আর্ন্তজাতিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ন্যায়ভ্রষ্ট ট্রাইবুনাল উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, শেখ মুজিব কর্তৃক ৭১ সালের একটি মীমাংসা ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসে শেখ হাসিনা দেশে ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।

একদিন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যাদের দরজায় এসে ধর্না দিতেন আওয়ামী লীগ এখন সেই জামায়াত ইসলামীকে স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যায়িত করে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারীক আদালত নামক নাটকের মাধ্যমে হত্যা ষড়যন্ত্রের লিপ্ত রয়েছে এই জালেম সরকার ।

বুধবার দুপুরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা এইসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদারের পরিচালনায সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মূখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা , ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক, সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম, জামিয়তে উলামা ইউরোপের সভাপতি মুফতি শাহ সদুরুদ্দিন, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যাক্তিবর্গ আব্দুল বাসিত , জুবাইর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ,নাসির উদ্দিন প্রমূখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের কাছে সেইভ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে প্রহসনের যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনলের কার্যক্রম বন্ধ করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, এটি একটি ভুল ও ন্যায়ভ্রষ্ট রায়।

কথিত এই রায়ে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলিত হয়েছের। মাওলানা নিজামী সরাসরি কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্ট ছিলনা ও আলবদর বাহিনীর প্রধানও ছিলনা, এই কথা ওপেন কোর্টে একথা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলার পরও বেআইনি মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। আমরা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারের জঘন্য ষড়যন্ত্র অভিহিত করে ন্যায় বিচার দাবি করছি।

বর্তমান ব্যর্থ সরকারের নানাবিধ চুরি ডাকাতি আর গুম খুন দামাচাপা দিতে হঠাৎ করে মাওলানা নিজামীর রায় সামনে নিয়ে এসেছে ।

ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক বলেন, সরকার একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলছে। কিন্তু বিরোধী দল রাস্তার পাশে সাড়ে তিন হাত একটি ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করতে গেলেও পুলিশ দেখামাত্র গুলি করে এবং আওয়ামী লীগের কর্মীরা এসে হামলা করে ।

অথচ সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গুলি করলেও এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বর্তমান অবৈধ সরকার আজ সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজ্যত্ব কায়েম করেছে।

সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো , এখন বাংলাদেশকে সেইরকম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতা লোভী হাসিনা।

বিশ্বের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ করছে আওয়ামী লীগ এবং মুখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথিত শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে। অবিলম্বে আমরা এই সমাবেশ থেকে জামায়াত আমীর মাওলানা নিজামীর মুক্তির দাবি করছি।

মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার বলেন, পাবনার কোনো মুক্তিযোদ্ধা বলেননি যে মাওলানা নিজামী মানবতা বিরোধী কোন প্রকার অপরাধে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে ১৯৮৬ সালের আগ পর্যন্ত মাওলানা নিজামী পাবনা জেলায় যায়নি ।

অথচ তাঁকে পাবনার ঘটনার জন্য ফাঁসির ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ভাবে জামায়াতকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে কথিত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে আমাদের জনপ্রিয় নেতাদের ফাঁসি দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে।

অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্বের সকল আর্ন্তজাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে অস্বচ্ছ, আগ্রহনযোগ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলা সত্বেও সরকার দেশের সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছেন তাদের সেই প্রতিবাদী কন্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে।

বক্তরা বলেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের গেইট থেকে সরকারী বাহিনী প্রকাশ্যে স্বাক্ষী অপহরন করে নিয়ে গেলেও ট্রাইবুনালের বিচারকরা সেটাকে আমলে নেন না। অথচ আসামি পক্ষ্যের আইনজীবিকে আদালত থেকে বহিস্কার করে দেন।

বক্তারা বিদ্যমান ট্রাইবুন্যালকে দলীয় আখ্যা দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিরোধীদলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে এই ট্রাইবুন্যালকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার। বক্তারা সরকারকে হুশিয়ার করে বলে আগুন নিয়ে খেলবেন না। তাহলে এ আগুনে সরকারকে পুড়ে মরতে হবে।

বক্তারা সকল রাজবন্ধির মুক্তির দাবী জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়া না হলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সকল দায়দায়িত্ব আওয়ামীলীগকেই বহন করতে হবে। বিচার বিচার খেলা চলছে। কি রায় হবে তা আগে থেকেই ঠিক করা আছে। সময় হলেই তারা তা পড়ে শুনানো হয় ।

তারা বলেন, বর্তমান ট্রাইবুন্যাল একটি বিতর্কিত ট্রাইবুন্যাল তাই একে বাতিল করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড়ঁ করানো হোক। কিন্তু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সে সৎ সাহস নেই।

মূলত: শেখ মুজিবর রহমান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজেই যুদ্ধাপরাধীদের মদদ করেছেন। এমনকি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে।

আর সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে শেখ মুজব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। প্রকৃত দোষীদেও ছেড়ে দিয়ে আজ বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগে। আর এ থেকে প্রমানিত হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়, আওয়ামীলীগের মুল টার্গেট জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিবর্গ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক সকল মহল এই ট্রাইবুন্যালকে প্রত্যাখান করেছে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইন আন্তর্জাতিক মানে নেই।

তারা বলেন, সরকার তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূলের অভিযানে নেমেছেন। দেশের মানুষ দেখেছে, কিভাবে চোর, বাটপার, জালিয়াতদের দিয়ে দেশের সম্মানিত মানুষদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ানো হচ্ছে।

ট্রাইবুনালে জামাতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হতে সরকারের তরফ থেকে বাধ্য করা হয়েছিলো বলে নান্নু মিয়া জানান।

একটি অফিসে গোপনে ধারণ করা এই ভিডিওতে দেখা যায় জনাব নান্নু খোলামেলাভাবে ট্রাইবুনাল নিয়ে বলেছেন, সরাসরি শেখ হাসিনার হুকুমে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য হয় মুক্তিযোদ্ধা নান্নু।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল এর জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য নিয়ে আসার অন্যতম নায়ক হচ্ছে লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইমরুল কায়েস। তিনি সেনাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড! শেখ হাসিনা তাকে পদোন্নতি দেন! তিনি মুক্তিযোদ্ধা নান্নুকে ক্যন্টনম্যান্ট এ নিয়ে যেয়ে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে বাধ্য করেন।

সাথে জড়িত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু। ব্যক্তিগত দূর্দশার বর্ণণা দিয়ে টাকা-পয়সার লেনদেন সহ এবং পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। এ থেকে পরিস্কার বুজা যায় এটি একটি জগন্ন মিত্যাচার এবং এটি একটি বিচারীক হত্যা কান্ড ।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের শ্লোগানে ছিলো মুখরিত ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। নানা ধরনের শ্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানারে লেখা ছিলো দেশ রক্ষার প্রতিবাদে মুখরিত, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার শ্লোগান। রুখে দাড়াতে বিশ্ববিবেকের কাছে আবেদন। শত শত বাংলাদেশী ও ব্রিটিশ পতাকা শোভিত এ বর্নাঢ্য মহাসমাবেশ এক অনবদ্য আকর্ষন সৃষ্টি করে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বিশাল সমাবেশে এমনি দৃশ্য দেখা গেছে।

এমবি