দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’ বিএনপির সমাবেশ শান্তিপূর্ণ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের  নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া।

এছাড়াও সময় স্বল্পতা এবং নির্দিষ্ট সময়ে কর্মসূচি শেষ করার শর্ত থাকায় সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সংক্ষিপ্ত আকারে বক্তব্য রাখবেন। মূলত দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে এই বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। রাত সাড়ে ৯টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে চলে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত।

বৈঠক সূত্র জানায়, সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে এবারই বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচিতে জোটের শরিক দলের কোনো নেতাকে দেখা যাবে না। এককভাবেই বিএনপির এই কর্মসূচি শেষ করতে চায়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি কামনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা জানান, সমাবেশে মূলত বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যেই মূল ফোকাস থাকবে। দেশে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের সামাধান করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন তিনি। এছাড়া সরকারকে সংলাপে বসতে এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের দাবি করবেন তিনি। এবিষয়ে তিনি আবারো ক্ষমতাসীনদেরকে আল্টিমেটাম দিবেন ও আন্দোলনের জন্য রোডম্যাপ কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন।

এছাড়া সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা ওপর গুরুত্বরোপ করেছেন বিএনপি প্রধান। সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দিতে দলের দায়িত্বশীলদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জে (অব) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জে (অব) আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনিশ্চিয়তা ও শঙ্কা ছাপিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবর্তে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৮টি শর্ত দিয়ে বিএনপিকে সমাবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা মোট্টোপলিটন পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ২টায় এই সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ৫ জানুয়ারির সমাবেশ কর্মসূচি দিয়ে দীর্ঘ দিনপর রাজপথের কোনো জনসভার আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এমএইচ