আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার (খালেদা) স্বামী খুনি, তিনি নিজে খুনি, তার ছেলে খুনি, গোটা পরিবারই খুনি।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান ক্যু করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ক্যু কারা করেন যারা খুনি তারাই ক্যু করেন। আওয়ামী লীগের রক্ত তাদের হাতে লেগে আছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান নিজেকে টেলিভিশনে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার পর দেশে ১৯টি ক্যু হয়েছে। এসময় তিনি নির্বিচারে হাজার হাজার সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি নেত্রী গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে, আগুন দিয়ে নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করেছে। তার নির্মমতা থেকে শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই দলকে নিশ্চিহ্ন করতে বারবার আঘাত এসেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ ত্যাগ-তীতিক্ষার পর আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় এসেছিল। কারণ, আওয়ামী লীগ হলো হীরার টুকরা। যতই কাটবে ততই রশ্মি বের হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে স্বাধীনতার নায়কদের নাম মুছে দিতে চেয়েছিল পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা। কিন্তু তাদের হত্যা করেও তারা নাম মুছে ফেলতে পারেনি। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগেরই কুলাঙ্গার খন্দকার মোশতাক। কিন্তু এই কুলাঙ্গার সাহস পেল কোত্থেকে। তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশ যা কিছু পেয়েছে তা কেবল আওয়ামী লীগের জন্যই পেয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জন্মই হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। বাঙালিকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র দেয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি জাতির যা কিছু প্রাপ্তি তা শুধুই আওয়ামী লীগের জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নই ছিল দেশের মানুষকে স্বাধীনতা দেয়া। সেই স্বপ্নের প্রতিফলন হচ্ছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছে এই আওয়ামী লীগকেই।

ঢাকা, ২৭ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ