সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার দেশে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দিয়েছে। এই সরকার দেশে একটা দুঃসহ অবস্থা তৈরি করেছে। সমস্ত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দিয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতেই হবে। এর থেকে বেরিয়ে না এলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না।

আজ বুধবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এসব বলেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান গবেষণা পরিষদের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানে ‘জিয়াউর রহমান বীর উত্তম’ সঙ্কলিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও সংগঠনের ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব।

সংগঠনের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন জিমির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আবদুল হাই শিকদার, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়াউর রহমান গবেষণা পরিষদের মোক্তাদির হোসেন তরু, জামিল হোসাইন মোরসালিন, জোবায়ের হোসেন তুহিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

তিস্তার পানি হিস্যা জাতিসঙ্ঘে তোলার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার দেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে দিয়েছে। আমার খুব দুঃখ হয়, যখন দেখি প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে ফিরে আসলেন আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাতে পারিনি। কারণ তিনি আমাদের জন্য কিছু আনলেন না, দিয়ে আসলেন। আমার ন্যুনতম যে তিস্তা নদীর পানি, সেটাও আবার কয়েকজন আশ্বাস দিলেন-এটা খুব শিগগিরই হবে। মমতা কালকে সেটা শেষ করে দিয়েছেন যে, প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমার তিস্তায় কোনো পানি নাই, পানি দেয়ার কারণ নাই। আমরা বলব- অভিন্ন নদীর হিৎসার প্রয়োজনে জাতিসংঘে যাক সরকার, যাতে করে আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাই।

তিনি বলেন, আমার পাওনাটা কোথায়? আমার পাওনার কথা বললেই আমি ভারতবিরোধী হয়ে গেলাম? আমি কখনোই ভারত বিরোধী নই। আমরা ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে নই। আমার অধিকার যারা হরণ করে, আমার নেতৃত্ব যদি সেই অধিকার রক্ষা করতে না পারে, তার সমালোচনা অবশ্যই করব। যারা সরকারে আছেন, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে যে, আমার স্বার্থ রক্ষা করা, তারা সেই স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি। এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে আমাদের দেশে মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে।

হাওরের ব্যাপক বন্যার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে হাওরে পানির ঢল নেমে আসছে। কোত্থেকে নেমে আসছে? উজান থেকে আসছে। সেখানে কোনো বাঁধ দেয়ার ব্যবস্থা নাই, কোনো প্রকল্প নেই আমাদের এদিকে। তারা বাঁধ দিয়ে যখন বেশি বৃষ্টি হয়, পানি ছেড়ে দেয়, আমরা ডুবে যাই, তলিয়ে যাই। এটা তো হতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইন আছে অভিন্ন নদীগুলোর ক্ষেত্রে- সেটা আমরা চাই, অবিলম্বে তার ওপরে চুক্তি হোক। এটার জন্যে প্রয়োজনে জাতিসংঘে যাক সরকার যাতে করে আমরা আমাদের ন্যায্য হিৎসা পাই।

নির্বাচন ও সহায়ক সরকার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন চাই। সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়। আমাদের জনগনকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে হবে পুরোপুরিভাবে। নির্বাচন করার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে, আমাকে জায়গা দিতে হবে। আমাকে কথাই বলতে দেয়া হবে না, আমার জনসভা করার জন্য অনুমতি দেয়া হবে না, র‌্যালি করার জন্য অনুমতি দেয়া হবে না। কোথাও একটা সভা করতে গেলে বলবে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো। এভাবে আমাদের অসংখ্য ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় নাশকতার অভিযোগে।

তিনি বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আবারো জেলে নিয়েছেন। জেলে পুরে বেশি দিন রাখা যাবে না, হত্যা করেও কাজ হবে না। এদেশের মানুষ অধিকার আদায়ের জন্য অতীতে যেভাবে সোচ্চার হয়েছে, আন্দোলন করেছে, ছিনিয়ে এনেছে, এখনো মানুষ তার অধিকার ছিনিয়ে আনবে।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুমুখী প্রতিভা ও দূরদর্শিতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ফেলেছিলেন এবং উন্নয়নের দিকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যাচ্ছিলেন। কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি- কোথায় হাত দেননি জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় যাবেন, দেখবেন এখনো তার অস্তিত্বটা আছে। আজকে যে শাহরিয়ার কবির অনেক কথা বলেন, বহু কথা বলেন। এই শাহরিয়ার কবির জিয়াউর রহমান সাহেবের সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে ঘুরে বেড়াতেন, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন। তারা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, জিয়াউর রহমান সাহেবকে অস্বীকার করতে পারবেন?

এমই