পৌর নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এ জন্য জোটভুক্ত দলগুলো প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলের নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. আসাদুজ্জামান রিপন সাংবাদিকদের বলেন, “এ বৈঠক খালেদা জিয়ার সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের সৌজন্য সাক্ষাৎ। এখানে পৌর নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জোটের নেতারা খালেদা জিয়ার ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।”

আসাদুজ্জামান বলেন, “জোটগতভাবে এ নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না, আর জোটভুক্ত দল বিএনপির প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার দাবি রাখে।”

বৈঠক সূত্র জানায়, পৌর নির্বাচনে প্রত্যেক পৌরসভায় ২০ দলের একক প্রার্থী থাকবে। কোনো দল থেকে প্রার্থী মনোনীত হলে বাকি জোটভুক্ত বাকি দলগুলো তাকে সমর্থন জানাবে। শরিক দলগুলো তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে জমা দেবে। তবে জামায়াতের প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি।”

সূত্র জানায়, প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য জোটের নিবন্ধিত দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করা হবে।
শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কতটুকু বাস্তবায়িত হবে, এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জোটের এক নেতা।

অপর সূত্র জানায়, জোটের একাধিক নেতা জোটগতভাবে না গিয়ে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তা হালে পানি পায়নি।

এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে নেতারা বলেন, বিএনপির প্রতীকে নির্বাচনে গেলে সরকার আরো বেশি কারচুপি করবে, এতে করে ভালো ফলাফল করা কঠিন।

খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলের নেতাদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের মাওলানা আব্দুল হালিম, খেলাফত মজলিশের ড. আহমেদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, এলডিপির ড. রেদওয়ান আহমেদ, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গাণি, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলীম লীগের জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মুহম্মদ ওয়াক্কাস, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ, পিএল’র গরীবে নেওয়াজ, ডিএল’র সাইফুদ্দিন মণি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান প্রমুখ। 

এমএইচ