ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘নালিশ’ করতে গিয়ে তার প্রশ্নে খালেদা জিয়া চুপসে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনায় দাঁড়িয়ে রোববার মোদী-খালেদা বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে এই দাবি করেন ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্য।

শেখ সেলিম বলেন, “নরেন্দ্র মোদী খালেদাকে তিনটি প্রশ্ন করেছিলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাৎ কেন বানচাল করা হল, সেদিন কাদের হরতাল ছিল। বেগম জিয়া বলেছেন, জোট যৌথভাবে হরতাল ডেকেছিল।

“চট্টগ্রাম বন্দরে অবৈধভাবে অস্ত্র খালাস করে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দেওয়ার যে আয়োজন হয়েছে, সেখানে আপনার ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সরাসরি জড়িত ছিল। খালেদা এর জবাব দিতে পারেননি।”

“তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, বর্ধমানে বিস্ফোরণে আপনার জোটসঙ্গীর জড়িত থাকার কথা যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে। খালেদা জিয়া কোনো জবাব দিতে পারেননি।”

নরেন্দ্র মোদীর সফরে গত ৭ জুন বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি শুধু বলেছেন, ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।  

তবে ওই বৈঠকের আলোচনা নিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে শেখ সেলিম বলেন, “মোদীর সঙ্গে দেখা করে খালেদা বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ করেছেন।

“ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সমর্থন করে এবং সব ধরনের মৌলবাদ ও সন্ত্রাসকে উচ্ছেদ করতে বদ্ধপরিকর। বুদ্ধিমানকে ইশারাই কাফি।”

বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য খালেদা জিয়াকে ‘বাধা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, “১৯২ জনকে হত্যা করেছেন। কোনো মানুষ এই রাজনীতি করতে পারে না।

“বাংলাদেশের মাটিতে আপনার রাজনীতি করার অধিকার নাই। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। খালেদা জিয়াকে এই দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেনই। ভবিষ্যতে তাকে যেন চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান করে, যাতে বাকি জীবন তিনি তার প্রিয় পাকিস্তানে কাটাতে পারেন।”

বাজেটের বিরোধিতা করতে গিয়ে একটি মহল রাষ্ট্রের বিরোধিতা করছে বলে দাবি করেছেন শেখ সেলিম।

তিনি বলেন, “কিছু লোক সব সময় সমালোচনা করে। বাজেটের ভালো দিক বলে না। টেলিভিশনের টক শো করে সরকারে নেতিবাচক বলতে গিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলে। অনির্বাচিত অবৈধ সরকার বাজেট দিলে তারা লুফে নেয়।”

“এমনভাবে কথা বলে মনে হয়, টেলিভিশন ফাটায়া ফেলে। খালি টক শো করে। আরে মিষ্টি শো একটু কর। শেখ হাসিনা যা কিছু অর্জন করছে, সেইগুলান বল।”

‘বিলাসী বাজেট’ বলে সমালোচনা করলেও বাস্তবায়ন করলে সমালোচনাকারীরা চুপ হয়ে যান বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ সেলিম বলেন, “অনেকে এক মগ পানি আনতে পারে না, তিস্তা নিয়ে কথা বলে! খালেদা জিয়া তো গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কথা বলতে ভারত গিয়েছিল, ফেরার পর সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিল, গঙ্গার পানির চুক্তি নিয়ে কী করলেন? কয়, আমি ভুলে গেছিলাম।”

‘মানব পাচারে রোহিঙ্গারা’

মানব পাচারের জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করে তার বিচারে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য শেখ সেলিম।

তিনি বলেন, “এই রোহিঙ্গাদের আমদানি করেছিল খালেদা। আজ জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মাদক- এই সব রোহিঙ্গারাই করে। মানব পাচারেও জড়িত এই রোহিঙ্গারা।

“এর জন্য যদি শক্ত আইন না থাকে তাহলে আইন করা হোক। পৃথক ট্রাইব্যুনাল করা হোক। যারা মানব পাচার করে তাদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে একটি আইন এই সংসদে পাস করেন।”

রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

এএইচ