চলমান অবরোধে আরাম-আয়েশে দিন কাটছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতাদের।
আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে নামেছেন না কেউ।ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন তারা।এমনকি অনেকের বিরুদ্ধে একটা মামলা পর্যন্ত হয়নি রাজধানী কিংবা নির্বাচনী এলাকায়।যার দরুন হতাশ হয়ে পড়েছেন কর্মীরা।
জেলায় জেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে আন্দোলন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে পুলিশসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। আন্দোলন দমনে তাদের টার্গেট এখন বিএনপির অর্থদাতা আর পরিকল্পনা প্রণয়নকারী নেতারা।
দক্ষিণের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি এদের ধরতে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত শুরু হয়েছে অভিযান।
গত কয়েক দিনে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিঞা আহম্মেদ কিবরিয়াসহ দক্ষিণের বেশ কয়েকজন নেতার ঢাকার বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
এসব অভিযানে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন বরিশাল গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানসহ একাধিক নেতা। অবরোধের প্রথম দিকে বরিশালসহ দক্ষিণের ৬ জেলায় বেশ কঠোরভাবে আন্দোলন হলেও এখন আর সে অবস্থা নেই।
পুরো বিভাগের এখন বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির আওতাধীন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী এলাকাতেই কেবল রয়েছে আন্দোলনের ছোঁয়া। প্রায় প্রতি রাতে সেখানে ঘটছে হামলা, ভাংচুর ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
এর আগে বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট, দপদপিয়া, নথুল্লাবাদ এবং ঝালকাঠির গাবখান ও খয়রাবাদ এলাকায় দুটি বাস, লঞ্চ, বি আইডব্লিউটিসির স্টিমার এবং একটি ট্রাকে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও এখন থেমে গেছে সেসব।
থেমে গেছে বিভাগের ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা এবং পটুয়াখালীর আন্দোলনও। কেবল মহাসড়কের যানবাহন চলাচল খানিকটা কম থাকা ছাড়া সবকিছুই স্বাভাবিক।
বরিশাল মহানগরীতে আন্দোলনের মিছিল গিয়ে ঠেকেছে গ্রামের মেঠোপথে। ২০/৩০ সেকেন্ডের জন্য মিছিল, রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুন- তারপর হাওয়া। দেখা মিলছে না বিভিন্ন জেলার দায়িত্বশীল নেতাদের।
মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ধরা পড়ার ভয়ে অনেকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখছেন। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন, আন্দোলনে সহায়তা তো দূরের কথা, নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারছি না।
এ জেলার সভাপতি ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মেজর (অব.) শাহাজাহান ওমর এলাকায় আসেন না। এমনকি গত ৬/৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামকেন্দ্রিক একটি মামলা পর্যন্ত হয়নি তার বিরুদ্ধে ।
থাকেন ঢাকার বিলাস বহুল বড়িতে।একই অবস্থ বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টো, কেন্দ্রীয় নেতা জেবা খান এবং নুরুল ইসলাম বাবুল’র। এরাও কেউ হয়নি মামলার আসামি।
ঝালকাঠির চিত্রই এখন পুরো দক্ষিণজুড়ে। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ রব মিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দায়ের হয়েছে ৫টি মামলা। অথচ তার সভাপতি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ চৌধুরী রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, উনার বিরুদ্ধে মামলা নেই তা নয়, যেসব মামলা আছে তার প্রায় সবগুলোই দুর্নীতির। দায়ের হয়েছে ওয়ান-ইলেভেনের সময়। আন্দোলনের ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে উনি এলাকায়ই থাকেন না।
একই ভাবে ভোলার সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম এবং মেজর (অব.) হাফিজ, পিরোজপুরে কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন, বাউফলে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার এবং গৌরনদীর সাবেক এমপি জহিরদ্দিন স্বপনসহ আরও অনেকেই রয়েছেন এই তালিকায়।
ক্ষোভের সঙ্গে এসব এলাকার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, নিজেদের নিরাপদে রাখতে আরাফাত রহমানের মৃত্যুর পর জেলায় জেলায় হওয়া গায়েবানা জানাজায় পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন না এদের কেউ।
বরিশালের ডিআইজি মো: হুমায়ুন কবির বলেন, সাধারণ মানুষের জান মাল রক্ষার্থে পুলিশের কড়া প্রহড়া রয়েছে।কোন অবরোধকারী মাঠে আসলে আইন গত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এছাড়াও নাশকতা দমনে নতুন কৌশল হিসেবে অর্থ জোগান দাতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত চালাচ্ছেন বলে জানান।
এসএইচ





