ঝিনাইদহে ‘বন্দুক যুদ্ধে’র নামে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম ও তারিক হাসানকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ শহর শাখার আমির জহুরুল ইসলাম ও জামায়াতের রুকন তারিক হাসান সজীবকে আজ ২৫ অক্টোবর ভোর রাতে ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস সড়কের ভুটিয়ারগাতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পুলিশ গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। যা কোন দায়িত্বশীল পুলিশের আচরণ হতে পারেনা।
এ হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জহুরুল ইসলাম ও তারিক হাসান সজীব কোন অপরাধী নয়, তারা জামায়াতের নেতা-কর্মী। তাদেরকে এভাবে হত্যার কোন যুক্তিকতা থাকতে পারেনা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর জহুরুলকে প্রকাশ্যে পুলিশ গ্রেফতার করে। এর পর থেকে পুলিশ বার বার তার গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলো। ৪৮ দিন পর পুলিশ তার লাশ উপহার দিল।
তিনি পুলিশের ‘বন্ধুক যুদ্ধ’কে ‘নাটক’ আখ্যায়িত করে বলেন, কোন ব্যাক্তি পুলিশের হাতে গ্রেফতার থাকার পর তার সাথে বুন্ধুক যুদ্ধ হতে পারে তা হাস্যরস ছাড়া কিছুই নয়। ঘটনা স্থল থেকে সার্টারগান, বোমা, গুলি, চাপাতি, ছোঁরা উদ্ধারের কথা অতীতের মত পুলিশের বানানো কল্পকাহিনী বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ঝিনাইদহে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের বহু নেতা-কর্মীকে এভাবে গুলি করে হত্যা করেছেন, বহু মায়ের বুক খালি করেছেন এবং বহু স্ত্রীকে বিধবা করেছেন ও বহু সন্তানকে এতিম করেছেন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আর কত মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন? তাদের যদি কোন দোষ থাকত তাহলে কেন তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলো না?
গোলাম পরওয়ার বলেন, আল্লাহকে ভয় করুন। মানুষের প্রত্যেক কর্মের জন্য অবশ্যই আল্লাহর মুখোমুখি হতে হবে। সকল প্রকার ছলচাতুরী এবং ক্ষমতার দাপট সেখানে অসহায়ত্বে পরিণত হবে। সেদিন সবাইকে নিজ নিজ পাওনা আল্লাহ তায়ালা ঠিকই বুঝিয়ে দিবেন। সেদিন দাম্ভিক, অহংকারী এবং মিথ্যাবাদীরাই পরাজিত হবে।
সাথে সাথে তিনি এ হত্যার সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি করেন।
জারিফ





