জাতীয় সংসদে নেই, শুধু সেই বিরোধীরা সহিংস রাজনীতির তান্ডবের জন্য দায়ী নয়।এই বোমা একপক্ষেরও নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনীয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে “৩ মার্চ ৭১ উদযাপন কমিটি” আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস’শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, পেট্রোল বোমা ও ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যাকরা সহিংস রাজনীতি। সহিংস রাজনীতির নাম গণতন্ত্র হলে, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করতাম না।
তিনি আরও বলেন, পেট্রোল বোমা ও আগুনে পোড়ানোর যে ঘটনা ঘটছে। এটা শয়তানের শয়তানি। শয়তান মিঠাই লাগিয়ে দূরে সরে তামাশা দেখে। শয়তান ৫ জানুয়ারি মতো আঠা লাগিয়ে দিয়েছেন। সিল পড়ে গেছে সেদিন। মনে করছেন, বাংলার মানুষ ভুলে গেছে? ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, মানুষের বুকের মধ্যে দাগ লেগেছে। এটা গুলি করলেও উঠবে না।
আসম বর বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মানুষের কথা নেই। তারা মরা লাশ হলেও ক্ষমতায় থাকবে। আগে যারা শাসন করেছে, আমরা তাদের ইতিহাস ভুলিনি। চুরি করে কোথায় কতটাকা পাচার করেছে মানুষ জানে। এখন যারা ২০৪১ সাল পর্যন্ত চুরির পরিকল্পনা করছে, তাও জানি। জনগণ বোকা নয়।
তিনি বলেন, ময়লা দুই দলেই লেগে গেছে। তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন। দুই জোটের বাইরের লোকদের একত্রিত হয়ে এদের বলতে হবে, জনগণ আপনাদের চায় না। অনেক মানুষ পোড়াইছেন, ক্রসফায়ার দিছেন, এবার থামেন।
প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে ডাকেন। আলোচনা করে নির্বাচন দেন। এরপর আপনি (শেখ হাসিনা) মরণ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকেন, আমাদের আপত্তি নেই।
তিনি বলেন, আগুনে পোড়াদের টাকা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আর যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়, কিন্তু পুলিশ-র্যাব ক্রসফায়ারে দিয়েছে। তাদের টাকা দেবে কে? ওদের কি করবেন? ক্রসফায়ারের যতগুলি, সব হাটুর উপর-পায়ে। এরা আর চলে ফিরে খেতে পারবে না। প্লিজ একটু পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে দেখে আসেন। এই ক্রসফায়ার কি গণতন্ত্র?
রব বলেন, আজ জয় বাংলা স্লোগানে ডাকাতি-ছিনতাই-হাইজ্যাক করে, মদ খায়, জুয়া খেলে ছেলেরা। তারা কি জয় বাংলার ইতিহাস জানে? আজকে আওয়ামী লীগ আর শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ এক না। আওয়ামী লীগ তো স্বাধীনতা স্বীকারই করে না। স্বাধীনতার ইশতেহার কি তাদের দলীয় কোনো মিটিংয়ে পাশ করা হয়েছিল? যারা বীর বাঙালি অস্ত্র ধর..... স্বাধীন কর স্লোগান দিয়েছে, তাদের লাঞ্চিত করা হয়েছিল। আজকে তারাই (লাঞ্চনাকারি) মন্ত্রী।
এসময় তিনি নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার গ্রেফতার ইঙ্গিত করে বলেন, আমাকে গ্রেফতার করবেন? ফাঁসিতে ঝুলাবেন? থোড়া কেয়ার করি না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, সব কিছু নিয়ন্ত্রণে, আবার নিজেই মন্ত্রীদের বলছেন সাবধানে চলতে। তাহলে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলো সব? দেশের অবস্থা খারাপ। আমি জানি না কত দিন এভাবে চলবে!
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান প্রমুখ।
এমআর





