বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী আশুরা।

তিনি বলেন, ৬১ হিজরীর ১০ই মোহাররম কারবালা ময়দানে রাসুল (সা.) এর দৌহিদ্র ইমাম হোসাইন (রা.) এর শাহাদাত প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়ে নাড়া দেয়। তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও অন্যায় ও অসত্যের কাছে আত্মসমর্পন করেননি।

তাই পবিত্র আশুরার শিক্ষায় যেকোন প্রতিকুল পরিস্থিতিতে সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকতে হবে। দ্বীন কায়েমে অবিচল থেকে সুন্নাত ও নবীর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি পবিত্র আশুরার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনাতনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দীন, ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও ডা. খন্দকার আবু ফতেহ প্রমূখ।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, যুগে যুগেই ইসলামী আন্দোলন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও তা থেকে মোটেই আলাদা নয়। সরকার ইসলাম শুণ্য করতেই দেশকে অগ্নিগীরিতে পরিণত করেছে। মানুষকে করা হচ্ছে আতঙ্কগ্রস্থ করতে।

আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সকল প্রকার জুলুম-নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় পাহাড়ের মত অবিচল থাকতে হবে।

কর্মীদেরকেই ইসলামী আন্দোলনের সঞ্জীবনী শক্তির আঞ্জাম দিতে এবং যেকোন ত্যাগ স্বীকারে সর্বাবস্থায় প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি মহাকবি আল্লামা ইকবালের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন ‘ ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হর কারবালা কি বাদ’।

তিনি বলেন, মূলত পবিত্র আশুরার চেতনা নারী-রাসুল (সা.) গণের প্রদর্শিত ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ কোরবানীর নজরানা পেশ করা। আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী শাহাদাতের নজরানা পেশ করে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনকে মজবুজ ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে গেছেন। তাই শহীদানের রক্তের পথ ধরেই ত্যাগের মহীমায় উজ্জীবিত হয়ে জীবনবাজী রেখে দ্বীন বিরোধী শক্তিকে সার্থকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

এসএম