এই মুহূর্তে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমাদ।

আজ শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারী বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন,  “সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বেঁছে বেঁছে গুলি করে হত্যা করছে। সরকারের নৃশংসতার প্রধান শিকার জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীগণ।

৫ জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত সরকার, বিরোধী রাজনৈতিক দলের ২৫ জন নেতা-কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে। ৫ ফেব্রুয়ারী রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের তথ্য সম্পাদক মেধাবী ছাত্র শাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করার পর রাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলামকে আটক করার পর আজ ৬ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে গুলি করে হত্যা করেছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাহাব পাটোয়ারীকে গত ৫ ফেব্রুয়ারী বিকেলে সাদা পোশাকধারী পুলিশ গ্রেফতার করার পর হত্যা করে আজ ৬ ফেব্রুয়ারী সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশ রেখে এসেছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজ ৬ ফেব্রুয়ারী সাতক্ষীরার বাসিন্দা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল বারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও জামায়াতের মহিলা সদস্য সুকতারাকে আটক করে নিয়ে গেছে।

পুলিশ আজ কুমিল্লা দক্ষিণ সদর সাংগঠনিক থানা জামায়াতের আমীর মাষ্টার কফিল উদ্দিনকে আটক করেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী শামীম রেজাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও তাকে আদালতে সোপর্দ না করায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিবারের আশঙ্কা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোন সময় তাকে হত্যা করতে পারে।

বাংলাদেশে চলছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি আইন লংঘন করছে। এমতাবস্থায় জাতিসংঘ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং শান্তিকামী জনতাকে এ অন্যায় ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

গদি রক্ষার জন্য সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে। সরকারের নিকট মহিলারাও নিরাপদ নয়। এর আগে ১৫ জানুয়ারী রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আল-আমিন ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম এবং প্রতিবেশী মৌসুমীকে গ্রেফতার করার ২৩ দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতেও সোপর্দ করেনি, পরিবারের নিকটও ফেরত দেয়নি। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজ প্রকাশ্যে হত্যা, গুম ও নৈরাজ্য সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়েছে।

আমরা সরকারের এই নৃশংস, অমানবিক, মানবতাবিরোধী ও সংবিধান পরিপন্থী ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই মুহূর্তে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানাই।

সেই সাথে ২০ দলীয় জোট ঘোষিত সকল কর্মসূচী শান্তিপূর্ণভাবে পালন অব্যাহত রাখার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

এসএইচ