বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়, জড়িত থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করুন। তদন্ত এবং মামলার এজাহারে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদেরই নাম এসেছে। তাদের ধরে বিচার করুন।আর বিচার করলেও লাভ কি আপনারা তো ফাঁসির আসামিকেও রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ক্ষমা করে দেন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত ‘নিরাপত্তা সংকটে নাগরিক জীবন: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় ভাবে সাড়ে ৭ হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। এমন কিছু মামলা রয়েছে যে গুলো প্রত্যাহারের কারণে আজ আইনশৃঙ্খলার এতটা অবনতি।
বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার কোন পরিস্থিতি ছিল না। নির্বাচনে গেলে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতো। কেননা সে সময় বিএনপির বেশির ভাগ সিনিয়র নেতাকেই মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি একটি রায়ের কারণে জণগন তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান এমন ভাবে পরিবর্তন করেছে যেখানে গণভোটের বিধানটিকেও উঠিয়ে নিয়েছে। দলীয় করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মৌলিক স্তম্ভ গুলো ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার।
গত ৭ বছরে উন্নয়নের জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে তা জণগনের কোন কাজে লাগেনি। যতগুলো কাজ হয়েছে তা বিনা টেন্ডারে দলীয় লোক এবং অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে।
প্রশাসন আজ ওএসডির কবলে জর্জরিত মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, প্রশাসনে আজ এমন কিছু লোককে বসানো হয়েছে যারা দলবাজি ছাড়া আর কিছু বুঝে না।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমায় এসেছেন, দু:শাসন বন্ধ করুন তা না হলে আপনাদের বিদায় হবে খুবই বেদনাদায়ক।
একই অনুষ্ঠানে বিচারপতি ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রউফ বলেন, ভোটার দিয়ে নির্বাচন করাতে না পারলে কেয়ামত পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোটের অধিকার এবং ক্ষমতা যার তাকেই সে ক্ষমতা দিতে হবে অন্যথায় প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ৯১ এর পূর্বে মানুষ মনে করত কয়েকটা হুন্ডা আর কয়েকজন গুন্ডা হলেই নির্বাচন ঠান্ডা।
রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বেশি করে পড়ুন এবং জানুন। বর্তমানে রাজনীতিতে থিংক ট্যাংক ছাড়া সামনে এগুতে পারবেন না। রাজনীতিতে ডিসিপ্লিন না থাকলে সামনে এগুনো সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাজেটে আগে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। হঠাৎ করে কি ধাক্কা লেগেছে যে কালো টাকা আর সাদা
করার সুযোগ নেই। আজ এ অশান্তির জন্য এ কালো টাকাই দায়ী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অধ্যাপক ড. মাহবুবুল্লাহ বলেন, আজ মানুষের জীবনের কোন মূল্য নেই। সারা দেশে যেভাবে গুম-খুন চলছে তা দেখে মনে হয় বাংলাদেশ একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রের দিকে এগুচ্ছে।
বিএনপি উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অত্যাচারিদের হাত অনেক লম্বা। বর্তমানে যে রাজনীতির সংস্কৃতি চলছে তা পরিবর্তন করে ঢেলে সাজাতে হবে। গুলশানের এসি গাড়ি-বাড়ি ছেড়ে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। আর না হয় মহাসিন্ধু পার হতে পারবেন না। ভারতের আগ্রাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র যেভাবে এদেশের রাজনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করছে তাতে মনে হয় না বাকি জীবনে শান্তিপূর্ণ দেশ ফিরে আসবে।
বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম বলেন, প্রতিটি জেলায় গডফাদারের জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আগে এসব গগফাদার নিজেরা গুলি করে মারত এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে কৌশলে হত্যা করায়।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে কলুশিত করার কারণেই এ পরিস্থিতিরি সৃষ্টি হয়েছে, কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের ক্ষমতায় এনেছে। তাই এখন তারা মাঝে মধ্যে মাসোহারা পাওয়ার জন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এখন মনে করেন রাজনীতি আতঙ্কের বিষয়। জন প্রতিনিধি হতে হলে তার একটি গুন্ডা বাহিনী লাগবে।
চলমান রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে তিনি বলেন, আজ যে সমস্যা তা শুধু একটি রাজনৈতিক দল সমাধান করতে পারবে না।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১ এ দেশে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, সেখানে শুধু রাজনৈতিক দল নয় বরং দেশের সকলের অংশগ্রহণেই তার সুন্দর সমাধান হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে আমূল সংস্কার করে সেখানে যোগ্য লোক বসাতে হবে। যারা জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে।
যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সশস্ত্র সন্ত্রাস হচ্ছে। যেহেতু তারা অবৈধ সরকার তাই তারা জনগণের উপর নির্ভর না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভর করছে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ত করেন স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
[b]ঢাকা, ৯ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এএইচ[/b]