বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। তারা আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু দেশপ্রেমী জনতা সরকারের সে ষড়যন্ত্র কোন ভাবেই মেনে নেবে না।

তিনি হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াতের মৃত্যু দন্ডাদেশ বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত আমীরে জামায়াতকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি মোহাম্মদপুর কলেজগেট থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি স্কুল সামনে এসে শেষ হয়। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য শাহ মোঃ মাহফুজুল হক, মহানগরী শুরা সদস্য শেখ শরিফ উদ্দিন আহমেদ ও শফিউর রহমান, শিবিরের মহানগরী পশ্চিম এর সভাপতি খালিদ মাহমুদ, জামায়াত নেতা আলী আকরাম মোঃ ওজায়ের, মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আখতারুজ্জামান, আব্দুল ওয়াজেদ, ছাত্র নেতা আব্দুল আলিম, মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান, মামূন ও সাকিব প্রমুখ।

মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। সে ষড়যন্ত্রকে বাস্তবরূপ দিতেই কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে একের পর এক বরেণ্য জাতীয় নেতাদের হত্যা করে দেশকে বাধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে।

জামায়াতকে নেতৃত্বশূণ্য করার সরকারি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের ইতিহাসকে রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত করেছে। তারা একইভাবে জামায়াতের অপরাপর শীর্ষ নেতাদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু সচেতন জনতা সরকারের এসব দেশ ও জাতিস্বত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্র কখনোই মেনে নেবে না।

রমনা জোন: আমীরে জামায়াতকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রমনা জোনের উদ্যোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মু. রেজাউল করিম। উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য আবু জুনায়েদ, নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও সালাহউদ্দীন, জমায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম, ড. আহসান হাবিব, আব্দুল কাইয়ুম ও   জিল্লুর রহমান, ছাত্রনেতা আবু জারিফ প্রমুখ।

 


যাত্রাবাড়ী জোন: আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিরে যাত্রাবাড়ী জোনের উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শনির আখড়া ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফ্রাইওভারের নীচে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানার আমীর নিজামুল হক। উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা আমীর খন্দকার আবু ফতেহ, কদমতলী পূর্ব থানার আমীর মাওলানা আমিরুল ইসলাম, শিবিরের কেন্দ্রীয় দাওয়া সেক্রেটারি আনিসুল হক বিশ্বাস, মহাগনরী দক্ষিণের সভাপতি সাবেক বিল্লাহ, সেক্রেটারি রিয়াজ উদ্দীন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আলী, শাহজাহান খান, মনির হোসাইন, মহীউদ্দীন, নেসার আহমদ, আতিকুর রহমান, বেলাল হোসাইন, আব্দুল করিম, রমজান আলী, ছাত্রনেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু, মাসুম তারিফ, শফিকুল ও এমাম প্রমূখ।

মিরপুর জোন: আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মিরপুর জোনের বিক্ষোভ মিছিল মিরপুর ১০ নং ফায়ার সার্ভিস এর সামনে থেকে শুরু হয়ে ইনডোর স্টেডিয়াম এর সামনে গিয়ে এক পথ সভার মাধ্যমে শেষ হয় । মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মোহনগরীর সূরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য ও মিরপুর পূর্ব থানা আমির মাহফুজুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন পল্লবী থানা আমির আশরাফুল আলম , শাহ আলী থানা আমির মীজানুর রহমান, মিরপুর পশ্চিম থানা আমির নূরুল ইসলাম আকন্দ, কাফরুল থানা আমির আনোয়ারুল করিম এবং দারুসসালাম থানা আমির মুস্তাফিজুর রহমান ও বিভিন্ন থানার সেক্রেটারি বৃন্দসহ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্যও প্লানিং এন্ড ডেভলপমেন্ট সম্পাদক সুলতান তামিম , ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সেক্রেটারী ডা, মু. মুজাহিদুল ইসলাম , অফিস সম্পাদক জুবায়ের হোসেন, শিক্ষা সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, এইচ, আর, ডি সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সহ মহানগরী ও থানাসমূহের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।

উত্তরা জোন: মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগরী উত্তরা জোন এক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। বিক্ষোভ মিছিলটি জসিম উদ্দীন মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ঢাকা মহানগরী শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য উত্তরা জোন পরিচালক জনাব ইবনে কারীম আহমেদের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর শুরা সদস্য আবু উমার, বিমানবন্দর থানা আমীর আবু ফারহান মো. মুহিব উত্তরা পূর্বের আমীর বি এইচ সুজা, তুরাগ আমীর এম ইউ নাঈম, খিলক্ষেত আমীর মাওলানা হুসাইন আহম্মদ, দক্ষিণখান আমীর এড মনিরুল হক, উত্তরা পশ্চিমের সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ রেজাসহ বিভিন্ন থানার সেক্রেটারীগণ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মহানগরী উওরের সেক্রেটারী জামিল মাহমুদসহ বিভিন্ন থানার সভাপতি সেক্রেটারীসহ ৫০০ শতাধিক নেতা কর্মী।

পল্টন ও খিলগাঁও জোন: আমীরে জামায়াতের মুক্তির দাবিতে পল্টন ও খিলগাঁও জোনের যৌথ উদ্যোগে আজ সকাল ৮.৩০ টায় এক বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর শান্তিনগর মোড় থেকে শুরু হয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব প্রদান করেন মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও শাহজাহানপুর থানা আমীর শামসুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন মতিঝিল থানা আমীর কামাল হোসাইন, মুগদা থানা আমীর মতিউর রহমান, খিলগাঁও থানা আমীর সগির বিন সাঈদ, কেন্দ্রীয় শিবির নেতা মনিরুজ্জামান শামীম, শিবির ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সেক্রেটারী সোহেল রানা মিঠু, জামায়াত মতিঝিল থানা সেক্রেটারী মোতাসিম বিল্লাহ, সবুজবাগ থানা সেক্রেটারী আবদুল বারি, রামপুরা থানা সেক্রেটারী হাসান ইমাম, শাহজাহানপুর থানা সেক্রেটারী সাইদুর রহমান সাঈদ ও ওয়ারী থানা সেক্রেটারী আবদুস সালাম প্রমুখ।

লালবাগ জোন: আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে নিঃশর্ত লালবাগ জোনের উদ্যোগে আজ সকাল ৮.৩০ টায় এক বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর আগাসাদিক সড়ক থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদশিক্ষণ করে। মিছিলে নেতৃত্ব প্রদান করেন মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও বংশাল থানা আমীর আজমল হোসেন।

উপস্থিতি ছিলেন কোতয়ালী থানা আমীর আবু আব্দুল্লাহ, কামরাঙ্গীরচর থানা আমীর মাহমুদুল হাসান, লালবাগ থানা আমীর আবু আনাস, লালবাগ থানা সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম, কামরাঙ্গীরচর থানা সেক্রেটারী মাওলানা নজরুল ইসলাম, কোতয়ালী থানা সেক্রেটারী এম আর আজাদ, জগনাথ বিশ্ববিদ্যায় সভাপতি মাহমুদর রহমান, আবাসিক সভাপতি ইয়াসিন, ছাত্রনেতা দুলাল, জামায়াত নেতা এ কে গিয়াস উদ্দিন, ডা. আবু নাসের, আহাদ উল্লাহ, আবু সাদ, মনির হোসেন মিজি, তোফাজ্জল হোসেন, মাকসুদ উল্লাহ, আবু হানিফ, শিবির কোতয়ালী থানার সভাপতি বেলাল হোসেন ও সেক্রেটারী সাইফুল ইসলাম, শিবির চকবাজার সভাপতি তানভীর হোসেন প্রমুখ।

মিছিলের শেষ পর্যায়ে পুলিশ জনতার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।
এমবি