বিচারপতিদের অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখার প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর করণীয় নির্ধারণ করবেন তারা।

সোমবার (০৩ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখে আইনন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন কীভাবে সংবিধান পরিপন্থী হয়, সেটা বুঝতে পারছি না।

আনিসুল হক বলেন, বিচারপতিদের অপসারণে সামরিক সরকারের করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আদালত কেন সাংঘর্ষিক মনে করছেন না তা আমার বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, বিচারপতি অপসারণের বিষয়ে সংসদের হাতে যে ক্ষমতা ছিল সেটি ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে যে কথাগুলো বলা আছে, বিশ্বের গণতান্ত্রিক ও উন্নত দেশগুলোতে সে বিষয়গুলো আছে। অথচ আপিল বিভাগ একটি সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। এখনও আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় পায়নি। রায় পাওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো।

প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৪ সালে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। এতে ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়, যা ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে- এমন যুক্তিতে সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়।

রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। গত বছরের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

একই বছরের ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত আজ তা খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখলেন।

এর আগে গত ৩০ মে দশম দিনের আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরিদের মতামত প্রদান শেষ হয়। মোট ১০ জন অ্যামিকাস কিউরি আদালতে মতামত দিয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জনই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মতামত দেন।

এমই